ধস নামতে পারে স্বর্ণের বাজারে!

আপডেট : ১৮ জুন ২০২৫, ০৮:০৪ পিএম

দুবাইয়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম আবারও বড় ধরনের পতনের মুখে পড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংক সিটি। তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ১২ মাসে স্বর্ণের আন্তর্জাতিক বাজারদর কমে প্রতি আউন্সে ২,৮০০ থেকে ৩,০০০ মার্কিন ডলারের মধ্যে নামতে পারে। এর প্রভাব পড়বে দুবাইয়ের বাজারেও, যেখানে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম আবারও গ্রামপ্রতি ৩০০ দিরহামের নিচে নেমে আসতে পারে—বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৯,৯৯০ টাকা। এর ফলে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম হতে পারে ৩,৪৯৮ দিরহাম, অর্থাৎ ১ লাখ ১৬ হাজার ৪৮৪ টাকা।

আজ বুধবার গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে।

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমার সম্ভাবনার পেছনে মূল কারণ হিসেবে সিটি উল্লেখ করেছে মার্কিন অর্থনীতির পুনরুদ্ধার এবং ২০২৪ সালের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। প্রতিষ্ঠানটি মনে করে, অর্থনৈতিক আস্থা ফিরে এলে বিনিয়োগকারীরা ধাতব স্বর্ণ থেকে সরে গিয়ে অন্য খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন, যার ফলে কমে যাবে স্বর্ণের চাহিদা।

তবে এই পূর্বাভাসে দ্বিমত পোষণ করেছেন দুবাইয়ের স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা। কানজ জুয়েলার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অনিল ধানক বলেন, ‘বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে স্বর্ণের দাম বরং আরও বাড়তে পারে। আমি বিশ্বাস করি ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ স্বর্ণের দাম ৩,৮০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।’

দামের বর্তমান চিত্র

২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে প্রথমবারের মতো দুবাইয়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম গ্রামপ্রতি ৩০০ দিরহাম অতিক্রম করে। পরে তা বাড়তে বাড়তে সর্বোচ্চ ৩৮৩ দিরহাম পর্যন্ত উঠে। বর্তমানে বাজারে ২২ ক্যারেট স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে গ্রামপ্রতি ৩৭৮.৫ দিরহাম দরে, আর ২৪ ক্যারেটের দাম ৪০৮.৭৫ দিরহাম।

দাম কমলে বাড়তে পারে চাহিদা

স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের মতে, যদি দাম আবারও ৩০০ দিরহামের নিচে নেমে আসে, তাহলে বাজারে নতুন করে বড় ধরনের ক্রয়চাপ তৈরি হতে পারে।

ডিজিটাল বিনিয়োগেও ঝোঁক বাড়ছে

অন্যদিকে বিনিয়োগ বিশ্লেষকরা বলছেন, উচ্চমূল্যের কারণে অনেক ক্রেতা এখন ডিজিটাল স্বর্ণ, যেমন গোল্ড অ্যাকাউন্ট, ইটিএফ বা স্বর্ণভিত্তিক অ্যাপ-এর মাধ্যমে বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকছেন। এর ফলে বাস্তব স্বর্ণ কেনার আগ্রহ কিছুটা হলেও কমে যাচ্ছে।

সিটি ব্যাংকের পূর্বাভাস সত্যি হলে, স্বর্ণের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে, যেখানে প্রবাসী বাংলাদেশিসহ দক্ষিণ এশীয়রা স্বর্ণ কেনার বড় অংশীদার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত