গাজীপুরের শ্রীপুরে এক আঞ্চলিক সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে। এ সময় ডাকাতের এলোপাতাড়ি কোপে অটোরিকশার এক চালক খুন হয়েছেন। একই সময় অজ্ঞাত দ্রুতগামী এক গাড়ি ডাকাতদের লক্ষ্য করে চাপা দিলে পাঁচ ডাকাত আহত হয়। পরে তাদের মধ্যে একজন ডাকাত চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। খবর পেয়ে পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় চার ডাকাতকে আটক করে।
গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে বরমী ইউনিয়নের সাতখামাইর-বরমী আঞ্চলিক সড়কের চেরাগ আলী মাজার এলাকায় এ দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় ডাকাতরা বিভিন্ন যানবাহনের চালক ও যাত্রীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ টাকা-পয়সা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। ডাকাতরা বেশ কয়েকজন জিম্মিকে এ সময় মারধরও করে। নিহত দুজনের মধ্যে একজন আরিফ হোসেন (২২)। তিনি ডাকাত দলের সদস্য ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। অন্যদিকে ডাকাতের এলোপাতাড়ি কোপে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর আবুল কালাম (৩০) নামের ওই অটোচালকের মৃত্যু হয়।
ডাকাতের কবলে পড়ে জিম্মি হওয়া শফিকুল ইসলাম জানান, রাতে এমসি বাজার এলাকা থেকে একটি পিকআপ নিয়ে বরমী বাজার যাচ্ছিলেন। পরে সাতখামাইর বাজার পার হয়ে চেরাগ আলী মাজার থেকে একটু এগিয়ে রাস্তার বাঁকে পড়তেই একদল ডাকাত তাদের গাড়ির গতিরোধ করে ডাকাতি করছিল। এ সময় এক অটোচালককে কোপায় ডাকাতরা। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী সবাই মিলে চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন। খবর পেয়ে অল্প সময়ের মধ্যে পুলিশও ঘটনাস্থলে চলে আসে। এর আগে এক দ্রুতগামী পিকআপ ডাকাতদের ব্যারিকেড লক্ষ্য করে গাড়িচাপা দেয়। এতে পাঁচ ডাকাত আহত হয়। পরে আশপাশের লোকজন মিলে তাদের ধরে ফেলে।
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, আহত ছয় ব্যক্তিকে পুলিশ হাসপাতালে নিয়ে আসে। আমাদের হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন মারা যান। গুরুতর অন্য ব্যক্তিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করা হলে নেওয়ার পথেই মারা যান তিনি। হাসপাতালে ভর্তি অন্য চারজনকে পুলিশ নিয়ে গেছে।
শ্রীপুর মডেল থানার ওসি মহম্মদ আবদুল বারিক ডাকাতির ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, চার ডাকাত সদস্য পুলিশের হাতে আটক আছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আটকদের আদালতে পাঠানো হবে।
