রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন পেতে রবিবার দলের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আবেদন জমা দিতে যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। নিবন্ধন পেতে দলের পক্ষ থেকে ইসি নির্ধারিত বেশ কিছু শর্ত ইতিমধ্যে পূরণ করা হয়েছে বলে জনিয়েছেন নেতারা। এদিকে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় এনসিপির সমন্বয় কমিটি থেকে ‘ব্যক্তিগত’ কারণ দেখিয়ে চার সদস্য পদত্যাগ করেছেন।
দলীয় সূত্র জানায়, ইসিতে নিবন্ধনের জন্য কোনো দলের কেন্দ্রীয় কমিটি, কেন্দ্রসহ অনূর্ধ্ব এক-তৃতীয়াংশ জেলা ও ন্যূনতম ১০০টি উপজেলা বা মেট্রোপলিটন থানায় অফিস থাকতে হয়। এ ছাড়া দলের গঠনতন্ত্রের কিছু বিষয় উল্লেখ থাকতে হয়। এনসিপি ইতিমধ্যে দেশের ৩৩টি জেলা ও ১২৭টি উপজেলায় সমন্বয় কমিটি গঠনে সক্ষম হয়েছে। তবে দলের গঠনতন্ত্র এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
এনসিপির প্রস্তাবিত খসড়া গঠনতন্ত্রে দলের শীর্ষ নেতা হিসেবে কাউকে তিন মেয়াদের বেশি না রাখা, তিন বছর পরপর কাউন্সিল আয়োজনসহ বেশকিছু বিষয় রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ১৯৪৭, ১৯৭১ ও ২০২৪-এই তিন ঐতিহাসিক ঘটনার সমন্বয়ে একটি ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়তে চায় দলটি। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নতুন রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের জন্য আবেদন জমা নেওয়ার সময়সীমা শেষ হচ্ছে ২২ জুন।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব বলেন, ‘আমরা রবিবারের মধ্যেই নিবন্ধনের জন্য আবেদন জমা দেব। ইতিমধ্যে খসড়া গঠনতন্ত্র চূড়ান্ত হয়েছে। অনুমোদনের জন্য এটি শুক্রবার অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় উপস্থাপন করা হবে।’
এদিকে, রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় এনসিপি সমন্বয় কমিটি গঠনের দুই দিনের মাথায় চার সদস্য পদত্যাগ করেছেন। গত ১৭ জুন রাতে ২০ সদস্যের কমিটি অনুমোদন দেন দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেন।
কমিটির তালিকা প্রকাশের পর কয়েকজন সদস্যপদ প্রাপ্তির বিষয়টি জানতে পারেন। পরে তারা সংগঠনের পদ থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। সে অনুযায়ী গত বৃহস্পতিবার রাতে হাফিজুর রহমান ‘ব্যক্তিগত সমস্যা’দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। এর আগের দিন রাতে একই কারণ দেখিয়ে হাদিউজ্জামান (রাফি), ফুয়াদ হাসান (গানিম) ও রাফিউল ইসলাম পদত্যাগ করেন।
ফেসবুক পোস্টে হাদিউজ্জামান রাফি বলেন, আমি রাজনীতি করতে চাই না, এ কথা আগেই তাদের জানিয়েছিলাম। তবু আমার নাম কমিটিতে রাখা হয়েছে। তাই পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে নিজেকে সব সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির অনুরোধ জানিয়েছি।
আরেক পদত্যাগকারী ফুয়াদ হাসান গানিম বলেন, আমি বিএনপি পরিবারের সন্তান। একাধিকবার অনিচ্ছার কথা জানানোর পরও আমার নাম কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে পদত্যাগ করেছি।
