রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে (কেআইবি) তিন দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলার শেষ দিনে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে। শত শত ফলের সমাহার ও ক্রেতা-দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়ে স্টলগুলোতে বেচাবিক্রিও ছিল চোখে পড়ার মতো।
গতকাল শনিবার খামারবাড়ির কেআইবিতে জাতীয় ফল মেলার শেষ দিনে এই চিত্র দেখা গেছে। অন্যান্য বছরের মতোই এবারের ফল মেলায় প্রায় ৮০টি স্টল ছিল। এসব স্টলে আম, জাম, লিচু, কাঁঠালসহ শত রকমের ফল বিক্রি হয়েছে। যদিও এবার মেলায় আমের ‘একচ্ছত্র আধিপত্য’ ছিল।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মেলায় ল্যাংড়া, আ¤্রপালি, নাগফজলি, বারি-৪, হাড়িভাঙা, সূর্যপুরি এসব দেশি জাতের আমের সঙ্গে দেখা মিলেছে থাই কাটিমন, পোকড়ি, হানিভিউ, ব্যানানা, মিয়াজাকি, আপেল ম্যাঙ্গো, কিং অব চাকাপাত-সহ আরও বহু জাতের আম।
এবার মেলায় বিক্রি অন্যান্য বছরের চেয়েও ভালো ছিল বলে জানিয়েছেন আয়োজক ও বিক্রেতারা। মেলায় সোলেমানপুর কৃষিপণ্য সংগ্রহ বিপণন কেন্দ্রের আহসান হাবিব রাব্বি বলেন, প্রচুর ক্রেতা ছিল এবার মেলায়। গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দর্শনার্থী এবার মনে হয়েছে। বেচাবিক্রিও ভালো হয়েছে।
মেলায় আম রপ্তানিকারক ও গ্লোবাল ট্রেড লিংকের স্বত্বাধিকারী রাজিয়া সুলতানা বলেন, আমাদের স্টলে রপ্তানিযোগ্য সব ধরনের আম প্রদর্শন করা হচ্ছে। ভালো সাড়া পাওয়া গেছে। মেলায় প্রায় কয়েক টন আমের পসরা নিয়ে বসেছেন কৃষিকেন্দ্রের মুজিবর রহমান। তিনি বলেন, প্রতিদিন এক থেকে দেড় লাখ টাকার আম বিক্রি হচ্ছে। আগে এত বিক্রি হতো না।
বেশ কয়েক বছর টানা এ মেলা হওয়ার কারণে অনেক ক্রেতা মেলায় ফল কেনার জন্য অপেক্ষায় থাকেন। তৌহিদুল ইসলাম নামের একজন ক্রেতা বলেন, মিরপুর থেকে প্রতি বছর আমরা ফল কিনতে এ মেলায় আসি। এখানে বাজারের তুলনায় খানিকটা সস্তায় কেমিক্যালমুক্ত ও ভালো মানের ফল পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকে।
