সাবেক সিইসিকে হেনস্তা

এইচআরএসএস আসক ও ব্লাস্টের নিন্দা উদ্বেগ

আপডেট : ২৪ জুন ২০২৫, ০৭:৩৯ এএম

সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সামনে হেনস্তার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ঘটনার তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ বিচারের দাবি জানিয়েছে তিন মানবাধিকার সংস্থা বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এবং হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। 

আসকের বিবৃতিতে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিও ফুটেজে প্রকাশিত এই দৃশ্য শুধু একজন ব্যক্তির প্রতি নয়, বরং দেশের সংবিধান মানবাধিকারের ন্যূনতম মূল্যবোধ ও আইনের শাসনের প্রতি সরাসরি আঘাতের নামান্তর। আসক মনে করে, একজন নাগরিকের বিরুদ্ধে যদি কোনো গুরুতর অভিযোগ থেকেও থাকে তা নিষ্পত্তির একমাত্র পথ হচ্ছে সংবিধান ও প্রচলিত আইনের নির্ধারিত প্রক্রিয়া। বিচারব্যবস্থার বাইরে গিয়ে যেকোনো অপমানজনক ও সহিংস আচরণ শুধু ব্যক্তি অধিকারকেই লঙ্ঘন করে না, তা একটি সভ্য ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মূল ভিত্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

আসকের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তাকে এভাবে সংঘবদ্ধ সহিংস গোষ্ঠীর দ্বারা হামলার শিকার করে লাঞ্ছিত করা শুধু ব্যক্তির অপমান নয়, এটি রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও আইনের শাসনের প্রতি অবমাননার শামিল। 

এদিকে পৃথক বিবৃতিতে কে এম নুরুল হুদার ওপর একদল উচ্ছৃঙ্খল জনতা কর্তৃক ‘মব’ সন্ত্রাস করে হেনস্তা করা ও জুতার মালা পরানোর ঘটনার তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এইচআরএসএস। সংগঠনের বিবৃতিতে বলা হয়, একজন সাবেক রাষ্ট্রীয় দায়িত্বশীল ব্যক্তির সঙ্গে এ ধরনের অসম্মানজনক আচরণ গণতান্ত্রিক শিষ্টাচার ও আইনের শাসনের পরিপন্থী। এমন ঘটনাগুলো ব্যক্তি মর্যাদা, নাগরিক অধিকার এবং দেশে আইনের শাসনের প্রতি জনগণের আস্থাকে চরমভাবে ক্ষুন্ন করে। এ ঘটনার দায় সরকার এড়াতে পারে না। এইচআরএসএস মনে করে, কোনো ব্যক্তি অপরাধ সংঘটিত করলে তাকে দেশের প্রচলিত আইনে বিচার করতে হবে। বিচার ব্যতিরেকে ‘মব’ বা জনতার হাতে আইন তুলে নেওয়ার ঘটনা মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর দৃষ্টান্ত। এ ধরনের আচরণ দেশের আইনি কাঠামো, মানবিক মূল্যবোধ এবং ন্যায়বিচার ব্যবস্থার প্রতি চ্যালেঞ্জ।

এদিকে ব্লাস্টের বিবৃতিতে বলা হয়, এ ধরনের ঘটনা মানবাধিকার ও সংবিধান লঙ্ঘন এবং মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। জনসমক্ষে সংঘটিত এ ধরনের কর্মকান্ড শুধুমাত্র সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন নয়, এটি বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতি চরম অবজ্ঞা। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩১ এবং ৩৫(৫) অনুযায়ী, প্রত্যেক নাগরিক আইনের আশ্রয় লাভের অধিকারী এবং কোনো ব্যক্তির প্রতি নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর শাস্তি প্রদান বা আচরণ করা যাবে না। এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একাধিক রায়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, কোনো ব্যক্তি আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে অন্য কোনো ব্যক্তিকে কোনো ধরনের বিচারবহির্ভূত শাস্তি দিতে পারে না।

বিবৃতিতে বলা হয়, মামলায় তৎকালীন নির্বাচন কমিশনের সিইসি হিসেবে তিনি একজন অভিযুক্ত মাত্র এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণের ভিত্তিতে তাকে সংবিধান, বিচারবিভাগ ও আইনের পরিম-লে বিচার নিশ্চিত করা বিচারিক সিদ্ধান্তের অধীন। এ কারণে তাকে কোনোভাবেই বিচারবহির্ভূত এবং অমানবিক বা অবমাননাকর শাস্তি বা আচরণের শিকার করা যেতে পারে না। এখন পর্যন্ত যারা সংঘবদ্ধভাবে এ সহিংসতায়  অংশ নিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ঘটনার দ্রুত এবং সুস্থ তদন্ত ও দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহি ও যথাযথ বিচার নিশ্চিত করাসহ এ ধরনের সংঘবদ্ধ সহিংসতা বন্ধে জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানায় ব্লাস্ট।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত