নেশার টাকা জোগাতে দেড় মাসের সন্তানকে বিক্রি

আপডেট : ২৫ জুন ২০২৫, ১২:৩৮ এএম

মাদকের টাকা জোগাতে দেড় মাস বয়সের পুত্র সন্তানকে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বাবার বিরুদ্ধে। গত সোমবার দুপুরে শরীয়তপুর সদরের চরপালং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে অভিযোগ পেয়ে রাতেই ওই নবজাতককে উদ্ধার করে তার দাদা-দাদির হাতে তুলে দিয়েছে পুলিশ।

সন্তান বিক্রি করা বাবার নাম ইব্রাহীম হাওলাদার। তিনি নড়িয়া উপজেলার ফতেজঙ্গপুর এলাকার শওকত হাওলাদারের ছেলে। পরিবার নিয়ে শরীয়তপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চরপালং এলাকায় ভাড়া করা বাসায় থাকেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মাদকের টাকা জোগাতে গিয়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন ইব্রাহীম। একপর্যায়ে শিশুটিকে ৩১ হাজার টাকায় প্রতিবেশী ইকবাল হোসেন ও মুক্তা দম্পতির কাছে বিক্রি করে দেন তিনি।

পালং মডেল থানা সূত্র জানায়, ইব্রাহীম ও শ্রাবণী দম্পতির দুবছরের এক মেয়ে ও দেড় মাস বয়সের এক ছেলে রয়েছে। ওই দম্পতি বিভিন্নভাবে মাদক বিক্রি ও সেবনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। মাদকের টাকার জোগান দিতে গিয়ে তারা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ে। গত সোমবার তাদের দেড় মাস বয়সী শিশু পুত্রকে প্রতিবেশী ইকবাল হোসেন ও মুক্তা দম্পতির কাছে ৩১ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয়। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে পালং মডেল থানার পুলিশ স্থানীয়দের সহায়তায় শিশুকে উদ্ধার করে। ওই সময় ইব্রাহীম ও শ্রাবণী দম্পতিকে আটক করা হয়। রাতে শিশুটির দাদা শওকত হাওলাদার ও দাদি ঝরনা বেগম থানায় মুচলেকা দিয়ে তাদের ছেলে ও পুত্রবধূকে ছাড়িয়ে আনেন।

ইব্রাহীম হাওলাদার বলেন, ‘ঋণ পরিশোধের টাকা পরিবারের কাছে চেয়েছিলাম। টাকা না পেয়ে ছেলেকে বিক্রি করার জন্য স্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করি। তার সম্মতি পেয়ে ছেলেকে ৩১ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেই।’

ইকবাল হোসেন বলেন, ‘আমার তিন কন্যা সন্তান। স্ত্রী ছেলে সন্তানের জন্য আকুতি জানাত। ইব্রাহীম ও তার স্ত্রী তাদের ছেলেকে লালন-পালনের জন্য আমাদের কাছে দিতে রাজি হলে আমরা তাদের কিছু টাকা দেই। পরবর্তী সময়ে স্থানীয়দের বাধার মুখে পুলিশের হাতে শিশুটিকে তুলে দিয়েছি।’

শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানার ওসি হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘ওই শিশুর বাবা মাদকাসক্ত। তাই তিনি এমন কাজ করেছেন বলে পরিবার থেকে জানানো হয়েছে। কোনো পক্ষের লিখিত অভিযোগ না থাকায় মামলা করা হয়নি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত