চাঁদাবাজির অভিযোগে বহিষ্কৃত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদলের দুই নেতাসহ নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের এক কর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বুধপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় নিরাপত্তা চেয়ে বুধবার (২৫ জুন) নগরের মতিহার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তর বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।
অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতারা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের বহিষ্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক আহসান হাবিব ও কর্মী হাসিবুল ইসলাম হাসিব। এর আগে তারা গত বছরের ১৯ অক্টোবর চাঁদাবাজির দায়ে সংগঠন থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। আরেক অভিযুক্ত হলেন ছাত্রলীগ কর্মী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বিশাল। অপরদিকে অভিযোগকারী জসিম উদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। জসিম আগে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে জানা গেছে।
লিখিত অভিযোগে জসিম উদ্দিন উল্লেখ করেছেন, মাগরিবের নামাজ শেষে আমি এবং আমার বন্ধু বুধপাড়া জিয়া স্কুল রোড এলাকায় হাঁটছিলাম। এ সময় বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা আহসান হাবীব, হাসিবুল ইসলাম ও বিশালসহ ১০-১২ জনের মোটরসাইকেল বহর আমাদের পথরোধ করে। তারা আমাকে আলাদা করে একপাশে নিযে যায় এবং বিগত সময়ের ছাত্রলীগের প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের ছবি দেখিয়ে রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। একপর্যায়ে তারা আমার কাছে জোরপূর্বক দুই হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অতীতে হলে থাকার জন্য কিছু বড় ভাইয়ের মাধ্যমে বাধ্য হয়ে প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করতে হয়েছিল কিন্তু আমি কখনও কোনও ছাত্র নির্যাতন বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। আমি জুলাই অভ্যুত্থানে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছি। তাদের গত ১৭ জুলাই আমার অবস্থান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছি সেই প্রমাণও দেখিয়েছি। তবুও তারা আমাকে মারধর করে হুমকি দেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতির কারণে আমি ১৫০০ টাকা দিয়ে কোনোমতে ছাড়া পাই। তারা আমাকে হুমকি দেয়, ভবিষ্যতে ছাত্রদলের প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করতে হবে। এ ঘটনার পর থেকে আমি চরম মানসিক বিপর্যয়ে আছি এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
তবে চাঁদাবাজির অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা আহসান হাবিব। তিনি বলেন, অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। জসিম রাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গালিবের ক্যাডার। শাহ মখদুম হলসহ পুরো ক্যাম্পাসে সে চাঁদাবাজি, সিট বাণিজ্যসহ নানা অপকর্মে জড়িত ছিল। কিন্তু ৫ আগস্টের পরে সে নিরীহ সাজার চেষ্টা করছে। গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে একটা প্রোগ্রামে যাওয়ার পথে রাস্তায় তার সঙ্গে দেখা হয়। তখন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করি। কিন্তু সে উল্টো আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে। এ সময় আমাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। পরে রাত আড়াইটার দিকে বিশেষ কারও মদদে ছাত্রদলকে হেয় করার উদ্দেশ্যে সে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গ্রুপে মাত্র ১৫০০ টাকা চাঁদাবাজির কাল্পনিক পোস্ট করেছে। সে আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে এ মিথ্যাচার করছে।
অভিযুক্ত হাসিবুল ইসলাম ও বিশালের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সাড়া দেননি।
বহিষ্কৃত হওয়ার পরও আহসান হাবিব ও হাসিবুল ইসলামকে সাংগঠনিক কার্যক্রমে অংশ নিতে দেখা গেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, তারা চাঁদাবাজি দায়ে আগেই বহিষ্কৃত হয়েছে। ছাত্রদলের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দেশের প্রচলিত আইনে বিচার হবে। সেক্ষেত্রে ছাত্রদল কোনো প্রকার বাধা বা নিরাপত্তা দিবে না। বিভিন্ন প্রোগ্রামে আমাদের অনেক নেতা-কর্মী অংশ নেয়, সেখানে তারা এসে অংশগ্রহণ করে থাকলে সেটি আমার চোখে পড়েনি। তবে তাদেরকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, একটা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নদীতে গোসলে নেমে দুই নৌকার চাপায় প্রাণ গেলো লামিমের
প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে সরকার কঠোর অবস্থানে: শিক্ষা উপদেষ্টা