বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকে কুপিয়ে জখম

আপডেট : ২৬ জুন ২০২৫, ০৭:৩৬ এএম

মাদারীপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) একটি কর্মিসভায় হামলা চালিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব মাসুম বিল্লাহকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে প্রতিপক্ষের একটি দল। গতকাল বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মাদারীপুর পৌর শহরের বাদামতলা এলাকার ভূঁইয়া কমিউনিটি সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত মাসুম বিল্লাহকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মাসুম মাদারীপুর পৌর শহরের বাদামতলা এলাকার আফতাব উজ্জামানের ছেলে। অভিযোগ উঠেছে, এনসিপির মাদারীপুর জেলা কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ হাসিবুল্লাহর অনুসারীরা এ হামলার সঙ্গে জড়িত। পুলিশ, এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের বরাতে জানা গেছে, বুধবার বিকেলে ভূঁইয়া কমিউনিটি সেন্টারে এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের নিয়ে একটি কর্মিসভা চলছিল। সভা চলাকালে গ্রুপিং ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে রাতুল হাওলাদার, টুটুল আকন ও রোমান শেখের নেতৃত্বে একটি দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় মাসুম বিল্লাহকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মাদারীপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা জানিয়েছেন, হামলাকারীরা হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ হাসিবুল্লাহর অনুসারী। এর আগেও তারা একাধিকবার হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

মাদারীপুর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক দিয়া ইসলাম বলেন, যিনি এই জেলায় আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন, তার ওপরই আজ হামলা হলো। হামলাকারীরা আমাদের সহযোদ্ধা নয়, তারা সন্ত্রাসী। আমরা শিক্ষার্থী, আমাদের হাতে কলম থাকবে, অস্ত্র নয়। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।

এনসিপির মাদারীপুর জেলা সমন্বয়কারী কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী নেয়ামত উল্লাহ বলেন, হামলাকারীরা একদল সন্ত্রাসী। তারা জেলা আওয়ামী লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য এনসিপিতে ঢুকে পড়েছে। আমরা তাদের কমিটি প্রত্যাখ্যান করছি। এরা দীর্ঘদিন ধরে হুমকি দিয়ে আসছিল এবং কিলিং মিশনে নেমেছে। এই সন্ত্রাসীরা মুক্ত থাকলে আমাদের নিরাপত্তা থাকবে না। তারা ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনের বিরোধী এবং হাসনাত আবদুল্লাহর বিরোধিতা করে।

হামলার অভিযোগের বিষয়ে জানতে হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ হাসিবুল্লাহর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, হামলার কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। তবে জড়িতদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান চলছে। আমরা আশা করছি, দ্রুতই সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত