কক্সবাজারে অবস্থিত রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবিরে শিশু শিক্ষার সংকট দিন দিন তীব্র হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) জানিয়েছে, বৈশ্বিক দাতাদের অনুদান হ্রাস পাওয়ায় এ সংকট আরও প্রকট হয়েছে। বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক আন্তর্জাতিক দাতা দেশ অনুদান কমিয়ে দেওয়ায় এনজিও পরিচালিত অনেক লার্নিং সেন্টার বন্ধ হয়ে গেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র যেখানে ৩০ কোটি মার্কিন ডলার অনুদান দিয়েছিল, চলতি বছর তা কমে জুন নাগাদ দাঁড়িয়েছে মাত্র ১ কোটি ২০ লাখ ডলারে। শুধু শিক্ষা খাতে ২০২৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ৭ কোটি ২০ লাখ ডলারের চাহিদার বিপরীতে মাত্র ২ কোটি ২০ লাখ ডলার অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেছে। ফলে তিন লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শিশুর জন্য চালু থাকা অসংখ্য লার্নিং সেন্টার বন্ধ হয়ে যায় এ মাসের শুরুতেই।
এইচআরডব্লিউ জানায়, বর্তমানে যে অল্প কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু আছে, তার বেশিরভাগই রোহিঙ্গা কমিউনিটি নিজেরাই পরিচালনা করছে, বাইরের সহায়তা ছাড়া। তবে এসব স্কুলে উন্নতমানের শিক্ষক ও পাঠদান থাকলেও, সেগুলোর কোনো সরকারি স্বীকৃতি নেই। ফলে আন্তর্জাতিক দাতারা এগুলোতে বিনিয়োগ করতেও আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।
ইউনিসেফ জানিয়েছে, তারা ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে উচ্চশ্রেণির পাঠদান ২৯ জুন থেকে আবার শুরু করার উদ্যোগ নিচ্ছে। তবে বাকি ক্লাস চালু রাখতে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ না পাওয়া গেলে সেগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই শিক্ষা সংকটের কারণে রোহিঙ্গা শিশুদের অনেককেই পড়ালেখা বাদ দিয়ে শ্রমবাজারে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। অনেক শিশু সশস্ত্র গোষ্ঠী ও অপরাধ চক্রের কবলে পড়ছে। শুধু ২০২৫ সালের প্রথম তিন মাসেই ৫১টি শিশুর অপহরণের তথ্য রেকর্ড করা হয়েছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের শিশু অধিকারবিষয়ক পরিচালক বিল ভ্যান এসভেলড বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দাতা দেশ রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষা সংকটকে যেন বিস্মৃত হয়েছে। অথচ এই শিশুদের একটি প্রজন্মকে ঝরে পড়া থেকে বাঁচাতে এখনই জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।’
