সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বড় জয় ট্রাম্পের, বেড়েছে ক্ষমতা

আপডেট : ২৮ জুন ২০২৫, ১১:১৯ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট একটি ঐতিহাসিক রায়ে ঘোষণা করেছে। এতে জেলা আদালতগুলো আর পুরো দেশের জন্য একযোগে স্থগিতাদেশ জারি করতে পারবে না। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৭ জুন) রায়ের এই সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনিক এজেন্ডার পক্ষে একটি বড় আইনি বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রায় ঘোষণার পর, হোয়াইট হাউসে একটি হঠাৎ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চকে সঙ্গে নিয়ে বক্তব্য দেন।

ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যের শুরুতে বলেন, ‘এই মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি একটি ঐতিহাসিক জনমত সমর্থন নিয়ে নির্বাচিত হয়েছিলাম, কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে কিছু উগ্র বামপন্থী বিচারক প্রেসিডেন্টের আইনগত ক্ষমতা খর্ব করে আমেরিকান জনগণের নির্বাচিত নীতিকে রোধ করার চেষ্টা করেছেন। এটি প্রকৃতপক্ষে গণতন্ত্রের জন্য একটি গুরুতর হুমকি ছিল। এসব বিচারক শুধু সংশ্লিষ্ট মামলার বিষয়ে রায় না দিয়ে পুরো জাতির জন্য আইন নির্ধারণ করার চেষ্টা করছিলেন।’

গত কয়েক মাস ধরে অভিবাসন ও সামাজিক ইস্যুতে ট্রাম্পের নীতিকে ব্লক করায় হোয়াইট হাউস ও প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠরা বারবার জেলা বিচারকদের সমালোচনা করেছেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘এই রায়টি অনেক বড় পরিসরকে কভার করে। আমি আবারও সুপ্রিম কোর্টকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। এটি বিশাল এবং আমদের দেশ এই রায়ের জন্য গর্বিত হওয়া উচিত।’

যদিও ট্রাম্প নিজেই সুপ্রিম কোর্টে নীল গোরসাচ, ব্রেট কাভানাগ এবং অ্যামি কোনি ব্যারেটকে মনোনীত করেছিলেন, সম্প্রতি খবর এসেছে যে তিনি এই তিন রক্ষণশীল বিচারকের প্রতি কিছুটা হতাশ, কারণ তারা কিছু গুরুত্বপূর্ণ মামলায় তার পক্ষে রায় দেননি।

তবে শুক্রবারের বক্তব্যে ট্রাম্প সেই হতাশার কোনো প্রকাশ ঘটাননি। বরং তিনি বিচারপতি অ্যামি কোনি ব্যারেটকে ‘চমৎকারভাবে’ রায় লেখার জন্য বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান।

এদিকে শুক্রবারের রায়ের সূত্রপাত হয়েছিল ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির প্রথম দিনে ঘোষিত এক নির্বাহী আদেশকে কেন্দ্র করে, যেখানে তিনি জন্মসুত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের চেষ্টা করেন। যদিও সুপ্রিম কোর্ট সরাসরি সেই মামলার বিষয়ে মন্তব্য করেনি, তারা দেশের সব কোর্টে জাতীয় পর্যায়ে স্থগিতাদেশ জারির আইনি বৈধতা নিয়েই সিদ্ধান্ত দিয়েছে।

অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি সাংবাদিকদের জানান, প্রশাসন এখনো জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত মামলার চূড়ান্ত রায়ের জন্য অপেক্ষা করছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত