পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি

গ্রেপ্তার এড়াতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ করে নারী-শিশুকে হত্যার হুমকি

আপডেট : ২৯ জুন ২০২৫, ০৫:৩৮ পিএম

রাজধানীর ফকিরাপুলে গোয়েন্দা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলির ঘটনায় শীর্ষ সন্ত্রাসী বাপ্পিকে অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গুলিসহ গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ডিবি (ডিবি)।

ডিবি বলছে, গ্রেপ্তার এড়াতে সীমান্ত দিয়ে দেশ ছাড়ার আগে যশোরে একটি বাড়িতে আত্মগোপনে থাকার তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। অভিযানের তথ্য জানতে পেরে আসামি যশোরের লুকিয়ে থাকা বাসার গ্যাস সিলিন্ডারের গ্যাস ছেড়ে দিয়ে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সেই বাসার নারী ও শিশুকে হত্যার হুমকি দিতে থাকেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় একাধিক সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করা হয়।

রবিবার (২৯ জুন) বিকেলে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে ডিবি পুলিশের ওপর গুলির ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে সংবাদ সন্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরেন ডিবির যুগ্ম কমিশনার (দক্ষিণ) নাসিরুল ইসলাম।

এ সময় পৃথক অভিযানে তাদের কাছ থেকে তিনটি বিদেশি পিস্তল, ৬টি ম্যাগজিন ও দেড় শতাধিক গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত সহযোগীরা হলো আবু খালিদ সাইফুল্লাহ ওরফে বোমা রিপন ও মো. কামরুল হাসান।

শুক্রবার (২৭ জুন) দিবাগত রাত ২টার দিকে যশোর জেলার ঘোপ নওয়াপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

নাসিরুল ইসলাম গত ১৮ জুন রাত সোয়া ৯টার দিকে রাজধানীর মতিঝিল থানার ফকিরাপুল এলাকার ডিআইটি এক্সটেনশন রোডে অভিযান চালিয়ে এক হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ আবদুর রহমান নামে একজনকে আটক করেন। পরবর্তীতে ১৯ জুন রাত সোয়া ১২টার দিকে মাদকসহ আটক আবদুর রহমানের দেওয়া তথ্য সিলভার রঙের প্রাইভেট কার পল্টনের থেকে আসা ডিবি পুলিশ সদস্যরা সিগন্যাল দিয়ে প্রাইভেট কারটিকে থামার নির্দেশ দেয়। গাড়িতে অবস্থানরত মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসীদের তল্লাশি ও গ্রেপ্তারকালে গাড়ির ভেতর থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী বাপ্পি হঠাৎ ডিবি পুলিশ সদস্যদের লক্ষ করে গুলি বর্ষণ শুরু করে পালিয়ে যেতে থাকে।

আভিযানিক দল গাড়িতে অবস্থানরত সদস্যদের গ্রেপ্তার করে দেহ তল্লাশি করে ইয়াবা উদ্ধার করে। ডিবি পুলিশ সদস্যরা শীর্ষ সন্ত্রাসী বাপ্পিকে ধাওয়া করে কিন্তু তিনি গ্রেপ্তার এড়িয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে অস্ত্রধারী শীর্ষ সন্ত্রাসী ডিবি পুলিশের ওপর গুলি বর্ষণকারী বাপ্পিকে গ্রেপ্তার করার লক্ষ্যে ঢাকা, বরিশাল, সাতক্ষীরা ও যশোর জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এদিকে পুলিশের ওপর গুলির ঘটনায় জড়িত বাপ্পি দেশ ছাড়রে যশোর শহরের ঘোপ নওয়াপাড়া রোডের নজরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির দোতলা বাড়িতে অবস্থান নেন। সেখানে নজরুলের জামাতা আবু খালিদ সাইফুল্লাহ ও বোমা রিপন এবং কামরুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।

গোয়েন্দা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বাপ্পি বাসায় থাকা গ্যাস সিলিন্ডারের গ্যাস ছেড়ে দেন। বাসায় গ্যাস জমাট করে পুলিশকে হুমকি দেন, যদি তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হয় তাহলে বাসায় থাকা শিশু ও নারীদের হত্যা করবে। পরবর্তীতে অভিযানে থাকা পুলিশ সদস্যরা ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় বাসার গ্যাস শূন্য করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বাপ্পির দেওয়া তথ্য মতে, ডিবি পুলিশের সদস্যরা শনিবার (২৮ জুন) রাজধানীর ডেমরা থানার বসতবাড়ি আবাসিক এলাকায় বাপ্পির বাসায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে  তার লুকানো দুটি বিদেশি পিস্তল, ৪টি গুলি ভর্তি ম্যাগজিনসহ সর্বমোট ১৫১ রাউন্ড পিস্তলের গুলি উদ্ধার করা হয়।

যুগ্ম কমিশনার নাসির আরও বলেন, বাপ্পির গ্রুপের সদস্য ২৫ জন। এখন পর্যন্ত আমরা মূলহোতা বাপ্পিসহ ১ও জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ২০১০ সাল থেকে বাপ্পি মাদক বিক্রি করে আসছেন। বিভিন্ন সময়ে অস্ত্র ও মাদকসহ গ্রেপ্তার হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ১১টি মামলা রয়েছে। পাশাপাশি তার গ্রুপের সদস্যদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।

অস্ত্রের উৎসের সম্পর্কে বাপ্পি গোয়েন্দা পুলিশকে বেশ কিছু ব্যক্তির নাম জানিয়েছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আমরা কাজ করছি। মাদক অস্ত্রের রুট সম্পর্কে আমরা কাজ করছি।

মাদক কারবারি হয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গুলির মজুদের বিষয় জানতে চাইলে ডিবির এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, বাপ্পির কাছ থেকে ৪টি বিদেশি পিস্তল ও দেড় শতাধিক গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। অস্ত্রগুলো বেশ দামি। অস্ত্র-গুলি মজুদের বিষয় আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। তিনি আসলে মাদক কারবারের পাশাপাশি আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় জুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ নেওয়াসহ এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করার চেষ্টা করে আসছিলেন। এই সকল কাজে অস্ত্রগুলো মজুদ করেছেন।

শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সঙ্গে যোগাযোগ আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা কিছু কিছু ক্ষেত্রে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আছে এই বিষয় নিয়ে আমরা কাজ করছি। হাতিরঝিল, ধানমণ্ডি, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় কিছু হত্যাকাণ্ড ও গুলির ঘটনায় শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছি। যদিও প্রতিটি ঘটনায় জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনতে পেরেছি।

বাড্ডায় বিএনপি নেতা সাধন হত্যার ঘটনার বিষয় গ্রেপ্তার সম্পর্কে জানোট চাইলে তিনি বলেন, আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করছি। দেখি সফল হতে পারি কি না। গ্রেপ্তারকৃতদের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত