বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের দক্ষিণ এশিয়ার সেরা হওয়ার তৃপ্তি আছে। তবে এশিয়ার বড় আঙিনা অর্থাৎ নারী এশিয়ান কাপে বাছাইয়ের গ-ি পেরোতে পারেনি। এবার এশিয়া কাপের বাছাই পেরোনোর স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। সেই লক্ষ্যে বাছাইয়ে ‘সি’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই বড় জয় পেল ঋতুপর্ণা-তহুরারা। ফিফা র্যাংকিংয়ে ৩৬ ধাপ এগিয়ে থাকা বাহরাইনকে বাংলাদেশ হারিয়েছে ৭-০ ব্যবধানে। প্রথমার্ধেই বাংলাদেশ এগিয়ে গিয়েছিল ৫-০ তে। বাংলাদেশের হয়ে দুটি গোল করেন তহুরা খাতুন। একটি করে গোল করেন শামসুন্নাহার জুনিয়র, ঋতুপর্ণা চাকমা, কোহাটি কিসকু ও মুনকি আক্তার। অপর গোলটি হয় আত্মঘাতী।
২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেকের পর বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল প্রথমবার বাহরাইনের মুখোমুখি হলো। ইয়াঙ্গুনে শুরু থেকেই একের পর এক আক্রমণ করে বাংলাদেশ। কিক অফের পর বাঁ-দিক থেকে দূরপাল্লার শট নেন ঋতুপর্ণা, গোলকিপার লাফিয়ে দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় বল গ্লাভসে জমান। ষষ্ঠ মিনিটে মাঠের আবারও বাঁ প্রান্ত দিয়ে ঋতুপর্ণা বল নিয়ে ঢোকার সময় তাকে বাধা দিলে ফ্রিকিক পায় বাংলাদেশ। সেখান থেকে টানা দুটি কর্নার পায় বাংলাদেশ। কর্নার থেকে শামসুন্নাহার জুনিয়র হেড করলে তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। তবে গোল পেতে বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি পিটার বাটলারের দলকে। দশম মিনিটে শামসুন্নাহারই প্রথম গোলটি করেন। মনিকা চাকমা মাঝমাঠ থেকে লং বল বাড়ান। সেটি পেয়ে গতিতে এক ডিফেন্ডারকে পেছনে ফেলে বল জালে পাঠান শামসুন্নাহার। ১৩ মিনিটে বাহরাইনের ইমান আল খাতা লং শটে চমকে দিতে চেয়েছিলেন বাংলাদেশের গোলকিপার রূপনা চাকমাকে। তবে বল মাঠের বাইরে যায়। ১৫ মিনিটে স্বপ্না রানীর আড়াআড়ি ক্রস ধরে বক্সে ঢুকে বাঁ-পায়ের দৃষ্টিনন্দন শটে গোল করেন ঋতুপর্ণা।
২৩ মিনিটে মারিয়া মান্ডার শট পোস্টের অনেকটা ওপর দিয়ে যায়। পরের মিনিটে মনিকা চাকমা গোলকিপারকে একা পেয়েছিলেন, চিপ করে বাহরাইন গোলকিপার খুলদ-এর মাথার ওপর দিয়ে মারতে চান। তবে বল পোস্টের ওপর দিয়ে যায়। ৩২ মিনিটে আফিদা খন্দকারের ক্রস থেকে তহুরা হেডে বল জালে পাঠিয়েছিলেন তবে অফসাইডে গোল মেলেনি। ৩৯ মিনিটে কর্নার থেকে বল পেয়ে গোলে শট নিয়েছিলেন মারিয়া মান্ডা। অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
৪০ মিনিটে তৃতীয় গোল পায় বাংলাদেশ। মনিকার কর্নারের পর মারিয়া মান্ডার আড়াআড়ি ক্রস থেকে জটলার মধ্যে বল পেয়ে গোল করেন মিডফিল্ডার কোহাটি কিসকু। ৪৪ মিনিটে ফ্রি কিক পায় বাহরাইন। তবে বল সহজেই তালুবন্দি করেন বাংলাদেশ গোলকিপার। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে দুটি গোল করে বাংলাদেশ। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে ব্যবধান ৪-০ করেন ১০ নম্বর জার্সিধারী ফরোয়ার্ড তহুরা। বাহরাইনের এক খেলোয়াড়ের ভুলে বল পেয়ে বক্সে ঢুকে জালে পাঠান তিনি। চতুর্থ মিনিটে শামসুন্নাহারের সঙ্গে চমৎকার বোঝাপড়ায় বক্সে ঢুকে ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তহুরা।
দ্বিতীয়ার্ধে আগের চেয়ে গোছানো ফুটবল খেলে বাহরাইন। তবু শুরুতে গোলকিপারকে একা পান শামসুন্নাহার। তবে গোল করতে পারেননি। ৫৪ মিনিটে শামসুন্নাহারের গোলের চেষ্টা রুখে দেন বাহরাইন গোলকিপার। ৬০ মিনিটে বাহরাইনের আরেকটি আক্রমণ রুখে দেন রূপনা। ৫৯ মিনিটে আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। চার মিনিট পর শামসুন্নাহারের হেড তালুবন্দি করে ব্যবধান বাড়তে দেননি বাহরাইন গোলকিপার।
৬৬ মিনিটে ঋতুপর্ণার শট পাশের জাল কাঁপায়। এরপর একসঙ্গে তিনটি বদলি করেন বাংলাদেশ কোচ। ৬৭ মিনিটে বাহরাইনের এক খেলোয়াড়ের শট ঝাঁপিয়ে ঠেকান রূপনা। ৭৪ মিনিটে ব্যবধান ৭-০ করেন বদলি নামা মিডফিল্ডার মুনকি। ৮০ মিনিটে ঋতুপর্ণাকে তুলে নেন বাংলাদেশ কোচ। ৮৪ মিনিটে মাঠের ডান প্রান্ত দিয়ে বাহরাইনের হিসা আলিসার গোলের চেষ্টা রুখে দেন রূপনা। পরের মিনিটে বক্সে বল পেয়ে জালে ঢুকিয়েছিলেন সাগরিকা। কিন্তু সাগরিকা নিজেই অফসাইডে থাকায় গোল হয়নি। এরপরই সুলতানার শট বারে লেগে প্রতিহত হয়। না হলে ব্যবধান আরও বাড়তে পারত। ম্যাচের শেষ দিকে বাংলাদেশের ডিফেন্ডার শামসুন্নাহার সিনিয়র হলুদ কার্ড দেখেন।
তুর্কমেনিস্তানকে ৮-০ গোলে হারানো স্বাগতিক মায়ানমারের সঙ্গে ২ জুলাই পরের ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। দুই গোল করা তহুরা খাতুন এই ম্যাচ নিয়ে বলেন, ‘মিয়ানমার অনেক শক্ত প্রতিপক্ষ। এই একই মাঠে আমরা মিয়ানমারের কাছে পাঁচটি গোল খেয়েছিলাম। আমরা সবসময় চেষ্টা করছি নিজেদের উন্নতি করার। মিয়ানমারের বিপক্ষে আমরা চেষ্টা করব আমাদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলার। বাকিটা আল্লাহ জানেন।’
