বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের আগামী মৌসুম মাঠে গড়াবার সময়টা জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। তবে তার আগের অনেক প্রক্রিয়াই বাকি। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সঙ্গে বিসিবি’র চুক্তি হয়নি, প্লেয়ার্স ড্রাফটের সময়ও নির্ধারণ করা হয়নি, বাকি আছে বিপিএল চালানোর জন্য স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রক্রিয়াও। বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের প্রধান ও বিসিবি পরিচালক মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য একটা সময়সীমা ঠিক করা হয়েছে। সে অনুযায়ী সেপ্টেম্বরে দেয়া হবে ফ্র্যাঞ্চাইজি, অক্টোবরে হবে প্লেয়ার্স ড্রাফট।
এবারে আগামী ৫ মৌসুমের জন্য ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানা দেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি। বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, ‘আমরা আশা করব যে এটা আগস্টের মধ্যে আমরা হয়তো নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি নেবার যে প্রক্রিয়া সেটা শুরু করবো এবং সেপ্টেম্বরের মধ্যে আমরা একটা টাইমলাইন রেখেছি যে নতুন ফ্রাঞ্চাইজিগুলো নিযুক্ত করা।' ফ্র্যাঞ্চাইজি নিযুক্ত করার পরই প্লেয়ার্স ড্রাফট হবে বলে জানিয়েছেন বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল চেয়ারম্যান, ‘ড্রাফট টা আরেকটু পরে। প্রথমত আমরা একটা টাইমলাইন করেছি, সে টাইমলাইন গুলো হচ্ছে ড্রাফটটা আমি মনে করি অক্টোবরের আগে হবে না। কারণ আমরা যদি দেখি আমাদের যে সময় টুকু রয়েছে সে সময়টুকু আমরা যেভাবে বলেছি যে স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির নিয়োগ আগস্টের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে যদি আমরা শেষ করতে পারি, আগস্টের শেষের মধ্যে আমরা ফ্রাঞ্চাইজি নিযুক্ত করার প্রক্রিয়ায় যাবো। এটা সেপ্টেম্বরে যদি আমরা সেটা শেষ করি তাহলে হয়তো অক্টোবরে আমরা ড্রাফটে যেতে পারবো।'
সবশেষ আসরে দূর্বার রাজশাহী, চিটাগং কিংস এর মত ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো নানান আর্থিক অনিয়ম করেছে, যার ফলে দূর্নাম হয়েছে বিপিএলের। খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক তো বকেয়া রেখেছিলই ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকরা, হোটেল ভাড়া থেকে শুরু করে বাসের ভাড়া এমনকি দলের সঙ্গে যুক্ত করা গ্ল্যামার গার্লের পাওনাও বুঝিয়ে দেয়নি কোন কোন ফ্র্যাঞ্চাইজি। এবারে তাই বিসিবি সতর্ক ভূমিকায়, জানালেন মাহবুব আনাম, ‘দেখেন আমরা যখন ফ্র্যাঞ্চাইজি যে স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির সাথে আমরা বোর্ড মিলে একটা সিদ্ধান্তে আসব যে কি ভিত্তিতে ফ্র্যাঞ্চাইজি গুলো নিয়োগ করা হবে। সেই ভিত্তিতে যদি বিদেশী মালিকানাধীন কাউকে দিতে হয়। অতীতে অবশ্য ছিল কিছু কিছু জায়গায় আমরা শুনেছি ইংল্যান্ডের মালিকানাধীন বা বাঙালি যারা ইউএসএ'তে থাকে তারাও করেছে শুনেছি। তো সেই প্রক্রিয়া গুলো আমরা আগস্টে যখন আমরা ফ্র্যাঞ্চাইজি নিয়োগে যাবো তখনই আপনাকে জানাতে পারবো।'
বিসিবি’র গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান মাহবুব আনাম, বিপিএলের গভর্নিং কাউন্সিলের প্রধানও তিনি। সবশেষ কয়েকটি আসরে বিপিএলের খেলাগুলো হয়েছে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের স্টেডিয়ামে। এর বাইরে অন্য কোন শহরে খেলা আয়োজন করার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে মাহবুব জানিয়েছেন, 'আগামী সপ্তাহের দিকে মাঠগুলো আমরা বিপিএলের তরফ থেকে মাঠগুলোর একটা অডিট করব। বিপিএল করতে গেলে মাঠগুলোর মিনিমাম আইসিসি রিকুয়্যার মিট করতে হবে। এখানে প্রডাকশন ফ্যাসিলিটি থাকতে হবে, দলগুলো থাকার জন্য ভাল আবাসন থাকতে হবে, সেই অনুপাতে আমরা অন্যান্য ভেন্যুগুলোকেও একটু মুল্যায়ন করব। দেখব যে ওখানে আয়োজন করা যাবে কি না অথবা আগামী ৪ মাসের মধ্যে ওগুলোকে ঠিক করা যাবে কি না। তারপরই আমরা সিদ্ধান্ত নিব যে আমরা মাঠ বাড়াতে পারব কি না।'
মাহবুব আনাম জানিয়েছেন যে রাজশাহীতে এই পর্যায়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাবনা নেই; বগুড়া, খুলনা ও বরিশালে পর্যবেক্ষণের পর কাজ শেষ হওয়া সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে সেসব জায়গাতে বিপিএল আয়োজন করা যাবে কি না।
তাসকিন-তানজিমের আগুনে বোলিং সামলে শ্রীলঙ্কার লড়াকু স্কোর
না খেয়ে খেলতে নেমেই কি হারলেন কোক গফ