নতুন টেলিকম নীতিমালা নিয়ে বিএনপির উদ্বেগ

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২৫, ০৬:০৯ এএম

অন্তর্বর্তী সরকার টেলিকম খাতে শিগগির নতুন নীতিমালা করতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে বিএনপি। দলটির পক্ষে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ নীতিমালা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে বলেছেন, ‘টেলিকম খাতের পলিসি নির্ধারণে সরকার তড়িঘড়ি করে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। গ্রামীণ জনগণের ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও তা টেলিকম খাতের টেকসই উন্নয়নে বাধা হতে পারে।’ এ নীতি দেশের বড় মোবাইল অপারেটরদের সুবিধা দেবে এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেও জানান তিনি।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল এ উদ্বেগের কথা জানান। গতকাল দুপুর আড়াইটায় বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ বোর্ডের প্রধান নির্বাহী চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন টেলিকম নীতিমালার খসড়া ঘোষণার দুই ঘণ্টা আগে সম্মেলন ডেকে দলের আপত্তির কথা জানান বিএনপি মহাসচিব।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দল জানতে পেরেছে, শিগগির অন্তর্বর্তী সরকার ‘ড্রাফট টেলিকম নেটওয়ার্ক ও লাইসেন্সিং রিফর্ম পলিসি-২০২৫’ প্রকাশ করবে। দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে বিএনপি জরুরি ভিত্তিতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গা থেকে সরকারকে সরে আসতে আহ্বান জানাচ্ছে। টেলিকম খাতের নতুন পলিসি কার্যকরী করার আগে সরকারকে পূর্ণাঙ্গ আর্থিক ও সামাজিক প্রভাব বিশ্লেষণের পাশাপাশি এ খাতের বিশেষজ্ঞ, ভোক্তা ও সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনার আহ্বান জানাই।’

বিএনপি মনে করে, টেলিকম খাতে সরকারের নতুন পলিসি বাজারে বড় কোম্পানিগুলোর একচেটিয়া আধিপত্য বাড়াবে। এ ছাড়া ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সংকটে ফেলার পাশাপাশি টেলিকম খাতে বিদেশি বিনিয়োগকেও নিরুৎসাহিত করবে, যা এই খাতের স্থিতিশীলতাকে বিঘœ ঘটাবে।

টেলিকম খাতে সরকারের নতুন পলিসি বড় মোবাইল অপারেটরদের প্রতি পক্ষপাত বলে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিদেশি মালিকানার সীমা নিয়ে অস্পষ্টতা আছে যা বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করতে পারে এবং খাতের স্থিতিশীলতা বিঘিœত করতে পারে। সরকারকে আহ্বান জানাই, এসএমই, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, গ্রাহক সংগঠনসহ সব পক্ষকে নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করার পর যেন নীতিমালা চূড়ান্ত করা হয়। সেই সঙ্গে প্রস্তাবিত নীতিমালার একটি পূর্ণাঙ্গ আর্থিক ও সামাজিক পরিণামও বিশ্লেষণ করা হোক। বিশেষ করে এসএমই ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সম্ভাব্য ক্ষতি, কর্মসংস্থান হ্রাস এবং অর্থনীতির ওপর প্রভাব বিবেচনায় রেখে তা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি বলেন, ‘স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ড বা নতুন ডিজিটাল সেবা নিয়ে নীতিতে কোনো সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা নেই, যা বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করতে পারে। এন্টারপ্রাইজ সার্ভিসের সীমা অস্পষ্ট। মোবাইল অপারেটরদের ফাইবারভিত্তিক ব্যবসা, সংযোগ সেবা কোথায় সীমাবদ্ধ তা নীতিমালায় স্পষ্ট নয়। ফলে বিবাদ ও অসাম্য তৈরি হতে পারে। বিএনপি বিশ্বাস করে, সবার জন্য উপকার বয়ে আনে এমন নীতিই গ্রহণযোগ্য। ডিজিটাল সংযুক্তির মাধ্যমে সমতাভিত্তিক উন্নয়ন এবং জাতীয় ডিজিটাল নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার অঙ্গীকারেই আমরা কাজ করে যাব।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেন, ‘সরকার নতুন পলিসির বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে না জানালেও আমরা জানতে পেরেছি। তাই তাড়াহুড়া করে আজকের (গতকাল) এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন। আমরা চাই প্রযুক্তির সুবিধা যাতে জনগণ ভোগ করতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘সরকার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করার আগেই আমরা আমাদের অবস্থান জানিয়েছি। নতুন পলিসির সঙ্গে দেশের প্রান্তিক জনগণও সম্পৃক্ত। যারা বিশেষজ্ঞ, তাদের কাজ হবে পরামর্শ দেওয়া। কিন্তু তারা যদি সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন, সেটা জনগণের মতামতকে উপেক্ষার শামিল।’

বিএনপির সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনারের বৈঠক : বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ হয়। সাক্ষাতের সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ উপস্থিত ছিলেন।

ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়ন, ব্যবসা-বাণিজ্য, নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

বৈঠকের পর আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কোথায় কোথায় সহযোগিতা করা যায় বিশেষ করে শিক্ষা, কৃষি প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশি ইমিগ্রেন্ট, তাদের বিভিন্ন সমস্যা আছে, এগুলো কীভাবে সমাধান করা যায় সেই বিষয়গুলো উঠে এসেছে। কীভাবে তারা সমাধান করবেন তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের নির্বাচনের বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। নির্বাচনের ক্ষেত্রে এখানে অস্ট্রেলিয়ার একটি সহযোগিতা আছে। ইলেকশন কমিশনে একটা বড় ধরনের সহায়তা করে, সেটা তারা এগিয়ে যাচ্ছে। তারা (অস্ট্রেলিয়া) চাচ্ছে, একটা সুষ্ঠু নির্বাচন যেন বাংলাদেশে হয়ে যায়। তার জন্য অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত