সাটুরিয়ার ডিসি পার্ক এখন মাদকসেবীদের আড্ডাখানা

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২৫, ০৭:২৬ এএম

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার ডিসি পার্কটি অবহেলা ও অযতেœ পড়ে আছে। কর্তৃপক্ষের সঠিক তদারকি না থাকায় মাদকসেবীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। ফলে লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে দৃষ্টিনন্দন পার্কটি জনসাধারণের কোনো কাজে আসছে না। তবে কর্তৃপক্ষ দাবি করছেন, সরকারি ও বেসরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে পার্কটি যুগোপযোগী করা হবে দ্রুত।

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি ইউনিয়নের পূর্ব কুষ্টিয়া গ্রামে অবস্থিত ডিসি পার্ক। বালিয়াটি জমিদাররা বিনোদনের জন্য লন্ডন ও মালদ্বীপের প্রাকৃতিক দ্বীপের আদলে এখানে কৃত্রিম দ্বীপ নির্মাণ করেন। ১৯৭১ সালের পর দ্বীপটি বেদখল হয়ে পড়ে। পরে সাটুরিয়া উপজেলা প্রশাসন ৪ একর ৬৮ শতাংশ জমি সরকারিভাবে নিয়ন্ত্রণে নেয়। এরপর ২০১৬ সালের ১৭ এপ্রিল সাটুরিয়ার তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মূর্তাজা মাসুমের তত্ত্বাবধানে তৎকালীন জেলা প্রশাসক রাশিদা ফেরদৌস ডিসি পার্কটি উদ্বোধন করেন।

সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এ পার্কটি উদ্বোধনের সময় একটি কাঠের সেতু, একটি ঘর ও ওয়াশ রুম তৈরি করা হয়। এরপর সাটুরিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের মাধ্যমে ১৮-১৯, ২০-২১ এবং ২৪-২৫ অর্থবছরে ৮ লাখ ৮১ হাজার টাকা এবং সাটুরিয়া উপজেলা এলজিইডি অফিসের মাধ্যমে ২১-২২, ২২-২৩ অর্থবছরে ১০ লাখ টাকার অবকাঠামো নির্মাণের জন্য প্রকল্প নেওয়া হয়। কিন্তু এত টাকার প্রকল্প নেওয়ার পরও তা শিশু ও জনসাধারণ সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারছেন না।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ডিসি পার্কটি মানিকগঞ্জ-টাঙ্গাইল আঞ্চলিক সড়কের সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি ইউনিয়নের পূর্ব কুষ্টিয়া গ্রামে অবস্থিত। সড়কের পাশেই বড় একটি পুকুর। চতুর্দিকে পানি, আর ঠিক মাঝখানে লম্বা দ্বীপ আকৃতির। গ্রামের কিছুটা পশ্চিমের একটি সড়ক পার হলেই চোখে পড়ে দৃষ্টিনন্দন দ্বিতল সেতু, এর উপরে রয়েছে টংঘর। সেতুর পশ্চিমে পাকা ঘাটলা। ঘাটলায় কিছু মানুষ গোসল করছে। আর সেতু পার হয়ে দ্বীপে গিয়ে দেখা যায়, ডান পাশে যে টয়লেট রয়েছে, সেটি উদ্বোধনের পর আর খোলা হয়নি। ২৩-২৪ অর্থবছরে দোলনাসহ শিশুদেও কয়েকটি খেলনাসামগ্রী বসানো হয়েছে। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, দোলনায় বসে কিশোররা মোবাইলে গেম খেলছে ও আড্ডা দিচ্ছে।

পূর্ব কুষ্টিয়া গ্রামের রমজান বলেন, ‘আমি দুই বেলা এখানে হাঁটি। এখানে দিনভর মাদকসেবীদের আড্ডা বসে। তাই নিরাপদ না থাকায় পার্কটি ব্যবহারে ঝুঁকি রয়েছে। এখানে রাতের বেলায় আলোকসজ্জা রাখা উচিত।’

কাওন্নারা গ্রামের আতাউর রহমান বলেন, ‘উদ্যোগটি খুবই ভাল ছিল। কিন্তু সাটুরিয়া উপজেলা প্রশাসনের খামখেয়ালির কারণে এ পার্কটির এখন ভগ্নদশা। আমরা চাই, দ্রুত পার্কটি যুগোপযোগী করে গড়ে তোলা হোক।’

বালিয়াটির রশিদপুর গ্রামের জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘এখানে ৪ একর ৬৮ শতাংশ জমি রয়েছে। এখানে নতুন রেস্তোরাঁ করা যেতে পারে, গাড়ি পার্কিংয়েরও ব্যবস্থা করা যেতে পারে। পার্কটিকে যুগোপযোগী করলে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হবে। প্রশাসনের কাছে জোর দাবি, জানাচ্ছি পার্কটি যাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ দিয়ে সংস্কার করা হয়।’

এ বিষয়ে সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইকবাল হোসেন বলেন, ‘ডিসি পার্কটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়ে আছে। তবে পার্কটি নিয়ে আমাদের বিভিন্ন পরিকল্পনা রয়েছে। দ্রুত আমরা এটি সংস্কারে হাত দিব। সাটুরিয়াবাসীর সহযোগিতায় এ পার্কটি সাটুরিয়া তথা জেলার অন্যতম প্রধান পর্যটন স্পট হিসেবে গড়ে তোলা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত