গ্রেপ্তার ১

সার্বিয়ায় বাংলাদেশি যুবককে অপহরণের পর কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২৫, ০৪:৩৮ পিএম

সার্বিয়াপ্রবাসী ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার বাসিন্দা ফয়জুল বিল্লাহ পাপ্পুকে অপহরণের পর ব্যাপক নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে নির্যাতনের সেই ভিডিও পরিবারের কাছে পাঠিয়ে ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে অপহরণকারীরা। 

এ ঘটনায় অপহৃত পাপ্পুর মা আয়েশা বেগম বাদী হয়ে গত ১৬ জুন মানবপাচার আইনে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন। পরে পুলিশ মোবাইল কলের সূত্রে ফুলগাজী উপজেলার আনন্দপুর গ্রামের মোহাম্মদ মিয়ার ছেলে ইব্রাহিম গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে।

জানা গেছে, নির্যাতনের ভিডিও চিত্র পাঠানোর দুই সপ্তাহ পরও নিখোঁজ রয়েছেন ওই যুবক। তার পরিবারের সদস্যরা চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছন। অপহৃত পাপ্পু সোনাগাজী মোহাম্মদ ছাবের সরকারি পাইলট হাই স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক ছেরাজুল হকের বড় ছেলে। উন্নত জীবনের স্বপ্ন নিয়ে পাঁচ বছর পূর্বে সার্বিয়া যান পাপ্পু। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন ভয়াবহ দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। ছেরাজুল হক ও তার স্ত্রী আয়েশা বেগম ছেলেকে জীবিত কিংবা মৃত যে কোন উপায়ে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রধান উপদেষ্টা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আয়েশা বেগম বলেন, গত ১৪ জুন রাত ৮টা ৪৯ মিনিটে একটি অচেনা নম্বর থেকে আমার হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিও কল আসে। ভিডিওতে দেখা যায়, ছেলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম। সেই সঙ্গে বাংলাদেশী প্রায় দুই কোটি ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। কয়েক দফা ভিডিও কলে পাপ্পুকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে সেই দৃশ্য ও শব্দ পরিবারের সদস্যদের দেখানো হয় । পরে বাংলাদেশের আটটি ব্যাংক ও মোবাইল নম্বর পাঠিয়ে তিন দিনের মধ্যে টাকা না দিলে ছেলেকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেন অজ্ঞাত অপহরণকারীরা। এরই মধ্যে গত ১৭ জুন রাত ১টা ১৫ মিনিটে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি ফোনে জানায়, ‘নির্যাতন সইতে না পেরে পাপ্পু বসনিয়ার একটি হাসপাতালে হার্ট অ্যাটাক করে মারা গেছে।’ তবে এ বিষয়ে কোনো সরকারি নিশ্চয়তা বা প্রমাণ পায়নি পরিবার।

তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে আরও বলেন, যেভাবেই হোক, তাকে দেশে ফিরিয়ে আনুন। আমার ছেলেকে বাঁচান। তার মৃত্যু হলেও যেন অন্তত জানাজা পড়াতে পারি। সার্বিয়া যাওয়ার পর কাজ করতে গিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে আমার ছেলের একটি পা কেটে ফেলতে হয়েছে। পঙ্গু অবস্থায়ও কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেছে।

স্থানীয় একাধিক সুত্রে জানা গেছে, পাপ্পু সার্বিয়া যাওয়ার পর মানবপাচার সিন্ডিকেটের খপ্পরে পড়েন। ওই সিন্ডিকেটের পরামর্শে তিনি সার্বিয়া নেওয়ার কথা বলে একাধিক ব্যাক্তির কাছ থেকে টাকা নেন। ভিসা দিতে না পারায় তার সাথে মানবপাচারকারী সিন্ডিকেটের সাথে বিরোধ সৃষ্টি হয়। ধারণা করা হচ্ছে ওই সিন্ডিকেট তাকে অপহরণ, নির্যাতন ও মুক্তিপণ চাওয়ার সাথে জড়িত রয়েছে। 

সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মো. বায়েজীদ আকন বলেন, অভিযুক্ত একজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অপহরণকারীদের দেয়া ব্যাংক একাউন্টগুলো চিহ্নিত করতে আদালতের কাছে আবেদন করা হয়েছে। আদালতের আদেশ পেলে বাংলাদেশে অবস্থানরত অপরাধীদের চিহ্নিত করা সহজ হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত