ফেনীর সোনাগাজীতে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে বোনকে উত্যক্ত করার পর প্রতিবাদ করায় ভাইকে ছুরিকাঘাত করেছে তাহসান নামের বখাটে।
বুধবার (২০ মে) সন্ধ্যায় উপজেলার সদর ইউনিয়নের সুজাপুর গ্রামের ফরাজি বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তাহসানকে অভিযুক্ত করে রাতে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছে আহতের পিতা জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু।
জানা যায়, স্কুলে আসা যাওয়ার পথে দীর্ঘদিন ধরে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুরাইয়া জাহান রাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্যক্ত করত স্থানীয় কিশোর গ্যাং নেতা তাহসান। ওই শিক্ষার্থী তার প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে পরিবারকে অবহিত করে। পরে শিক্ষার্থীর ভাই ইমাম হোসেন মহিম বিষয়টি নিয়ে তাহসানের পরিবারের কাছে অভিযোগ করে। এত ক্ষুব্ধ হয়ে তাহসান গত মঙ্গলবার রাতে ইমাম হোসেনকে মারধর করে। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে বুধবার রাতে ইমাম হোসেনকে দলবল নিয়ে ফের মারধর করে বখাটে তাহসান। মারধরের একপর্যায়ে ইমাম হোসেনের শরীরের একাধিক স্থানে ছুরিকাঘাত করলে সে গুরুতর জখম হয়। এসময় তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে গেলে তাহসান তার সঙ্গে আসা দলবল নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে ভর্তি করে।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানিয়েছে, বখাটে তাহসান আগে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর কিছুদিন পালিয়ে থেকে এলাকায় ফিরলে উঠবস করিয়ে ছাত্রলীগ না করা শপথ করিয়ে ছেড়ে দেয়। এ নিয়ে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। পরে বখাটে তাহসান ছাত্রদলের নেতাকর্মীদেরও সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলে ছাত্রদল রাজনীতিতে ভিড়ে যায়।
স্থানীয়রা আরো জানায়, ছাত্রদলে যাওয়ার পর তাহসান আগের চেয়ে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে। উপজেলা ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ছবি তুলে সামাজিক মাধ্যমে পোষ্ট দিয়ে নিজের কর্তৃত্ব জাহির করতে থাকে। কিশোর গ্যাং বাহিনি তৈরি করে এলাকায় নানবিধ অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।
আহত ইমাম হোসেন মাহিমের পিতা জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু বলেন, আমার মেয়ে স্কুলে যাওয়া-আসার সময় তারা বিভিন্নভাবে উত্যক্ত ও হুমকি দিয়েছে। আমার ছেলে ইমাম তার প্রতিবাদ করায় তাকে দুইবার হামলা করেছে। আমরা দরিদ্র তাই যাতে ঘটনা বাড়াবাড়ি না হয় সেজন্য আমি তাদের কাছে ক্ষমা চেয়েছি। কিন্তু তারপরও আমার ছেলের উপর হামলা করেছে। আমি এটির সঠিক বিচার চাই।
ঘটনার বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত তাহসান মুঠোফোনে কল দিলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে মহিমকে ছুরিকাঘাত করার পর সে আত্মগোপন চলে যায়।
সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম বলেন লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রামিসা হত্যাকাণ্ড, স্বামী সোহেলকে নিয়ে ভয়ংকর তথ্য দিলেন স্ত্রী স্বপ্না