চসিক কার্যালয়ে দুদকের অভিযান 

শ্রমিক থেকে প্রকৌশলী বানিয়ে দেওয়ার সত্যতা পেল দুদক

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২৫, ০১:১০ এএম

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে (চসিক) শ্রমিক পদে ২০২৩ সালের ১৮ জুন যোগদান করেছিলেন মো.  রোকনুজ্জামান। যোগদানের দিনেই তাকে সাগরিকা টেস্টিং ল্যাবে উপসহকারী প্রকৌশলী হিসেবে পদায়ন করা হয়। এভাবে আরও কয়েকজনকে নিয়ম ভঙ্গ করে দেওয়া হয়েছিল পদোন্নতি। কাউকে করা হয়েছে কর আদায়কারী, সড়ক তদারককারী, অনুমতিপত্র পরিদর্শক৷ 

সোমবার (৭ জুলাই) বিকেলে চসিক কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে ভয়াবহ এসব অনিয়মের সত্যতা পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১–এর একটি দল। এতে নেতৃত্ব দেন দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এর সহকারী পরিচালক মো. এমরান হোসেন। 

তিনি সোমবার রাতে সাংবাদিকদের বলেন, ‘শ্রমিকদের অবৈধভাবে বিভিন্ন পদে পদোন্নতি দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। নিয়োগ ও পদোন্নতিসংক্রান্ত বিভিন্ন নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব নথি পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন তৈরি করা হবে।’ 

বিষয়টি নিশ্চিত করে চসিকের সচিব মো. আশরাফুল আমিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘দুদক যেসব নথিপত্র চেয়েছে, আমরা সেসব সরবরাহ করেছি। আরও কিছু নথিপত্র আগামীকাল দেব।’

দুদক  জানায়, সাবেক সিটি মেয়র ও চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রেজাউল করিম চৌধুরী আমলে পদোন্নতি নিয়ে এসব অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। মো. রেজাউল করিম চৌধুরী ২০২১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি মেয়রের দায়িত্ব নেন এবং গত বছরের ৫ আগস্টে সরকার পতন হলে ১৯ আগস্ট তাকে অপসারণ করে অন্তর্বর্তী সরকার। তার শেষ দুই বছরে নিয়োগ পাওয়া ১৮৮ জনের একটি তালিকা তৈরি করেছে চসিক। 

তালিকায় দেখা গেছে, শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ দিয়েই এক লাফে উচ্চ গ্রেডের পদে পদায়ন করা হয়েছে অন্তত ৬৪ জনকে। চসিক জনবলকাঠামো অনুযায়ী, শ্রমিক পদ ২০তম গ্রেডের। কিন্তু সেখান থেকে ১০ম গ্রেডের উপসহকারী প্রকৌশলী, ১৬তম গ্রেডের কর আদায়কারী বা অনুমতিপত্র পরিদর্শক পদে পদায়ন করা হয়েছে। এ ধরনের পদোন্নতিতে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। সাবেক ওই মেয়র, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলর, চসিকের কিছু কর্মকর্তা ও শ্রমিকনেতাদের সুপারিশেই এসব নিয়োগ হয়েছিল। ঘনিষ্ঠদের জন্য পরীক্ষা ছাড়াই চাকরির ব্যবস্থা করা হয়। 

জানা গেছে, শ্রমিক হিসেবে যোগদান করে এক লাফে উপসহকারী প্রকৌশলী পদে পদন্নোতি পাওয়া রোকনুজ্জামান পুরকৌশলে ডিপ্লোমা করেছেন। পরে একই বিষয়ে স্নাতক করেন। রশিদ আহমেদ নামের আরেকজন নিয়োগ পেয়েছিলেন ২০২৩ সালের ৭ সেপ্টেম্বর। যোগদানের ১৯ দিনের মাথায় তাকে বিদ্যুৎ শাখায় উপসহকারী প্রকৌশলী পদে বদলি করা হয়। তিনি ডিপ্লোমা করেছেন৷ এইচএসসি পাস করা জাহেদুল আহসান গত বছরের ৩১ জানুয়ারি শ্রমিক পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন। নিয়োগ পাওয়ার ১৭ দিন পর ১৮ ফেব্রুয়ারি তাকে উপসহকারী প্রকৌশলী করা হয়। নিয়োগের ১৪ দিনের মাথায় শ্রমিক থেকে উপসহকারী প্রকৌশলী হয়েছেন এস এম রাফিউল হক মনিরীও। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত