খুলনায় টানা তিনদিনের বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত জনজীবন। এর মধ্যে কখনও কখনও ভারী বৃষ্টিতে নগরীর অধিকাংশ সড়ক ও নিম্নাঞ্চল বৃষ্টির পানিতে নিমজ্জিত হচ্ছে। অনেক সময় পানি ঢুকে পড়ছে বাসাবাড়ি ও দোকানপাটেও। এতে চরম বিপাকে পড়েছে নগরবাসী। তবে ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি হচ্ছে অফিসগামী মানুষ ও শিক্ষার্থীরা। এদিকে অতিবর্ষণে খুলনার মৎস্য সম্পদে ৪ কোটি টাকা ও কৃষিখাতে ১১০০ হেক্টর জমির ফসল আক্রান্ত হয়েছে।
খুলনা আবহাওয়া কার্যালয়ের সহকারী আবহাওয়াবিদ মিজানুর রহমান বলেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে গত ৭ জুলাই ৬টা থেকে বুধবার দুপুর ৩টা পর্যন্ত খুলনায় ১০৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার থেকে বৃষ্টিপাত কিছুটা কমতে পারে।
সরেজমিন দেখা যায়, ভারী বৃষ্টিপাতের সময় নগরী খুলনার বিকে রায় রোড, ডাকবাংলো মোড়, স্যার ইকবাল রোড, বেনী বাবু রোড, শামসুর রহমান সড়কের বাইতিপাড়া মোড়, আহসান আহমেদ রোড, খানজাহান আলী সড়কের রয়্যাল মোড়, দোলখোলা মোড়, বয়রা পুলিশ লাইন সড়ক, নতুন রাস্তা মোড়, নতুন বাজার সড়ক পানিতে নিমজ্জিত।
রিকসাচালক মো. আমজাদ হোসেন ও মো. ফারুক হোসেন জানান, বৃষ্টিতে রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কর্মজীবী ও নিন্মআয়ের মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বৃষ্টির কারণে রাস্তাঘাটে মানুষ খুব কম বের হচ্ছে। টাকা-পয়সা আয় না হওয়ায় খুব কষ্টে আছি।
এ প্রসঙ্গে খুলনা নাগরিক কমিটির সদস্যসচিব বাবুল হাওলাদার বলেন, শহর থেকে ভৈরব ও রূপসা নদীর তলদেশ ভরাট ও উঁচু হয়ে যাওয়ায় পানি নদীতে নামতে পারছে না। উল্টো জোয়ারের সময় পানি শহরের দিকে উঠে আসছে। এ ছাড়া পানি নিষ্কাশনের মূল মাধ্যম হিসেবে পরিচিত নগরীর ২২টি খাল এখনো দখলমুক্ত বা সংস্কার হয়নি। নালা নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না। অনেক জায়গায় রাস্তার চেয়ে ড্রেন উঁচু করে নির্মাণ করা হয়েছে। জলাধার ভরাট হওয়ায় দ্রুত জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।
তবে কেসিসির চিফ প্লানিং অফিসার আবির উল জব্বার বলেন, খুলনা শহর বেশ নিচু। জোয়ারের সময় পানি ঢোকে। আবার যেসব জায়গা দিয়ে পানি নিষ্কাসনের কথা সেখানে কেসিসি ও ওয়াসার উন্নয়ন কাজ চলছে। রাস্তার কাজের জন্য যেসব বাঁধ দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর কিছু কিছু কেটে দেওয়া হয়েছে, যাতে পানি সরতে পারে। এ ছাড়া দুটি প্রকল্পে ৯৭৩ কোটি টাকার কাজ চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে দুটি প্রকল্পের শতকরা ২৫ ভাগ কাজ সমাপ্ত হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় পাম্প স্টেশন ও সুইসগেট সংস্কারের কাজ চলছে। কাজ শেষ হলে জলজট অনেকটা কমে যাবে।
এদিকে, খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, অতিবর্ষণে খুলনার ৯ উপজেলায় ১১০০ হেক্টর জমির ফসল আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আউশ ও আমন ধান ক্ষেত, রোপা বীজতলা, পান, মরিচ, অপসীজন তরমুজসহ নানা সবজি।
খুলনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. বদরুজ্জামান বলেন, অতিবর্ষণে খুলনার ৯ উপজেলার মধ্যে পাইকগাছা উপজেলায় ১০টি ইউনিয়নে ১৪২৩ দশমিক ৪৩ হেক্টর জমির মৎস্য সম্পদে ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ ৪ কোটি ৫ লাখ টাকা।
মেয়ে রোদেলার সঙ্গে মা ন্যান্সি
শ্রীলঙ্কার জন্য দুঃসংবাদ; বাংলাদেশের জন্য সুসংবাদ