আর্থিক খাতের সংস্কারের ক্ষেত্রে অনেক বাধা-বিপত্তি রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, অনেকেই মনে করছেন আর্থিক খাতের সংস্কার বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের প্রস্তাব অনুসারে হচ্ছে, তবে বাস্তবে এমনটা না। সরকারের নিজস্ব উদ্যোগেও সংস্কার হচ্ছে। তবে তাদের কাছ থেকে কোনো ভালো সংস্কার এলে সেগুলো নিতে সমস্যা নেই বলেও জানান তিনি।
গতকাল বুধবার হোটেল সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টিং সামিটে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে এফআরসির চেয়ারম্যান ড. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এবং এতে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।
অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, স্বচ্ছতা-জবাবদিহি নিশ্চিতে অডিটিং-অ্যাকাউন্টিং বড় বিষয়। তবে যারা এসব কাজে জড়িত তাদের স্বচ্ছতা ও সততা সবার আগে দরকার। অনেক প্রতিষ্ঠান পেপার সাবমিট করেন যার বেশিরভাগই মানসম্পন্ন না।
একই বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘অধিকাংশ ব্যাংকের অডিট রিপোর্টে ফিকশন পাওয়া গেছে। একটি ব্যাংকের রিপোর্টে দেখা যায়, তাদের খেলাপি ঋণ ৪ শতাংশ। কিন্তু আমরা অডিট করে দেখেছি ৯৬ শতাংশ।’
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, এনবিআরের ক্ষেত্রে অডিট করা খুবই জরুরি। এনবিআরের মতে প্রতি ১০০ জনে ৭০ জনই শূন্য ট্যাক্স দেয়, এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। যারা ৭০ ভাগ তথ্য দিচ্ছে তাদের হিসাবও খতিয়ে দেখা উচিত। আবার ১৮ লাখ রিটার্ন জমা পড়ছে, সে তথ্যেও গরমিল থাকতে পারে। যারা অডিট করে তাদের অন্তর দৃষ্টি দিয়ে অডিট কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানান তিনি।
বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে তিনি বলেন, যদি আমরা বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে চাই তাহলে অডিটিং এবং অ্যাকাউন্টিংকে গুরুত্ব দিতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, অধিকাংশ ব্যাংকের অডিট রিপোর্ট গরমিল পাওয়া যায়। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি (রিস্ক বেসড সুপারভিশন) পুরোপুরি কার্যকর হবে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বিশ্বাস অর্জন করতে গেলে অডিট রিপোর্টে স্বচ্ছতা ও সঠিক তথ্য দিয়ে রিপোর্ট সাবমিট করতে হবে। এটার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক যৌথভাবে কাজ করবে। চার সরকারি প্রতিষ্ঠানে অডিট করতে গেলে তারা তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেনি। যদি অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ড কোনো প্রতিষ্ঠান অনুসরণ না করে তাদের ওপর শাস্তি আরোপ করা উচিত।
অডিটরদের সৎ থাকার পরামর্শ দিয়ে দুদক চেয়ারম্যান আব্দুল মোমেন বলেন, বর্তমানে দুদক যদি বিচার করে অডিট রিপোর্ট ধরে তাহলে স্বচ্ছ অডিটর পাওয়া যাবে না। আইএফআইসি ব্যাংকে প্রচুর কেলেঙ্কারি হয়েছে। সালমান এফ রহমান অডিট রিপোর্টের সহায়তায় একটা পেপারে কোম্পানির তথ্য ফুলিয়ে-ফাপিয়ে দেখিয়ে অর্থ নিয়েছেন। গত শাসনামলে ব্যাংক খাতের একের পর এক আর্থিক অনিয়ম হলে বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি। যেসব শীর্ষ অডিট ফার্ম এটা করেছে তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে, কিন্তু দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
