টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হু হু করে বাড়তে থাকা গোমতী নদীর পানি এখন কমতে শুরু করেছে। এতে নদী তীরবর্তী মানুষের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তবে এতে জেলার বিস্তীর্ণ ফসলি জমিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৩ হাজার ৬৪০ হেক্টর জমির সবজি, আউশ ধান ও রোপা আমন বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এসব ফসলের ক্ষতি ১০ কোটি টাকারও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত কয়েক দিনে বন্যার আশঙ্কায় অনেকে নদীর তীরবর্তী স্থায়ী ঘরবাড়ি ছেড়ে বেড়িবাঁধের ওপর বাঁশ ও ত্রিপল দিয়ে ঝুপড়ি ঘর তৈরি করেছিলেন। কেউ কেউ আশ্রয় নিয়েছিলেন স্বজনদের বাড়িতে। শুক্রবার (১১ জুলাই) সকাল থেকে বৃষ্টি বন্ধ থাকায় গোমতীর পানি দ্রুত কমতে শুরু করে। ফলে অনেকে আবার নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন।
সংরাইশ এলাকার বাসিন্দা রিপন মিয়া বলেন, নিরুপায় হয়ে নদীর চরে বসবাস করছি। পানি বাড়লে আমাদের হার্টবিটও বাড়ে। ছেলে সন্তান নিয়ে বাঁশ-পলিথিন দিয়ে ঝুপড়ি বানিয়ে সড়কের পাশে ছিলাম। আজ পানি কমায় রোদ উঠতেই বাড়িতে চলে যাচ্ছি।
আমতলী এলাকার কৃষক মোস্তফা মিয়া বলেন, চরে তিন একর জমিতে সবজি চাষ করেছিলাম। ফলনও ভালো ছিল। কিন্তু ভারতীয় ঢলের পানিতে সব তলিয়ে গেছে। অন্তত ৮-১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। কৃষিকাজের জন্য ঋণ নিয়েছিলাম, এখন কীভাবে পরিশোধ করব জানি না।
এ বিষয়ে বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তানভীর হোসেন বলেন, পানি কমছে, তবে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। দুর্যোগ মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুত আছি।
কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান বলেন, বৃষ্টি থেমেছে, উজান থেকেও ঢল কমেছে। ফলে পানি বিপদসীমার
নিচে নেমে এসেছে। শুক্রবার বিকেল ৩টায় গোমতীর পানি ৮ দশমিক ৫৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার এটি ছিল ৯ দশমিক ৬৮ মিটার। বিপদসীমা ১১ দশমিক ৩ সেন্টিমিটার।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আবেদ আলী জানান, জেলায় এখনো বন্যা হয়নি। কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতার খবর পাওয়া গেছে। তবে গোমতীর পানি ধীরে ধীরে কমে আসছে, দু-এক দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে। আতঙ্ক নয়, সচেতন হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৫৮৬টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আইউব মাহমুদ বলেন, গোমতীর চরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার ১৩ হাজার ৬৪০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় ১০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পুরোপুরি পানি নেমে গেলে সঠিক পরিসংখ্যান বের করা সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২২ আগস্ট গোমতী নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে কুমিল্লার বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার কারণে এবার গোমতীর পানি বাড়তেই এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
ইসরায়েলের সঙ্গে সং*ঘা*তে ইরানের ১২ সাংবাদিক নি*হ*ত
ক্ষমতার জন্য নয়, বিএনপি গণতন্ত্র উদ্ধারে পাগল: গয়েশ্বর
অসুস্থ ফরিদা পারভীনের খোঁজ নিলেন খালেদা জিয়া