অদৃশ্য শত্রু ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হচ্ছে উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘আমি আজ থেকে ৮-৯ মাস আগে বলেছিলাম, অদৃশ্য শত্রু আছে। আপনারা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন, ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হচ্ছে সেই অদৃশ্য শত্রু। তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে মানুষের গণতন্ত্র ও অধিকারের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল, ভিন্ন অবস্থান গ্রহণ করেছিল, জনগণের বিপরীতে অবস্থান নিয়েছিল। প্রশাসনের মধ্যে এখনো স্বৈরাচারের ভূত লুকিয়ে আছে। এখনো নতুন ভূত জন্ম হচ্ছে। সবাইকে বলব সচেতন হোন, না হয় দেশকে টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে। অন্যায়কারী যেই হোক, কোনো প্রশ্রয় দেবে না বিএনপি।’
গতকাল শনিবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে হোটেল লেকশোরে জুলাই আন্দোলনে শহীদ পরিবারের সঙ্গে ছাত্রদল আয়োজিত মতবিনিময় অনুষ্ঠানে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তারেক রহমান এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ১৪২ শহীদ পরিবারের সদস্য অংশ নেন। তাদের হাতে ছিল শহীদদের ছবি।
বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হত্যার বিচার প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘গত ১৫-১৬ বছরে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের বহু নেতাকর্মী শহীদ হয়েছেন। বিএনপি ছাড়াও অনেক দলের নেতাকর্মী শহীদ হয়েছেন। এমনকি নিরপেক্ষ অনেক মানুষও শহীদ হয়েছেন দেশের মানুষের অধিকার রক্ষা করতে গিয়ে। আগামীতে বিএনপি দেশের মানুষের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করতে পারলে এসব হত্যার বিচার সুষ্ঠুভাবে হবে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘তিন মাস আগে বিএনপি জুলাই সনদ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। এখন সেই সনদের বাস্তবায়ন সরকারের ওপর নির্ভর করছে।’
এ সময় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘একটা কথা পরিষ্কার করে বলতে চাই, যে ঘটনাগুলো ঘটছে সরকারকে আহ্বান জানাব, অতিদ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত যারা অপরাধী তাদের বের করে শাস্তির ব্যবস্থা করুন। অন্যথায় জাতি আপনাদের ক্ষমা করবে না, জাতিকে আপনাদের দায়ী করবে গণতন্ত্রের পথে ফিরিয়ে নেওয়ার সময় এসব সমস্যা তৈরি করার জন্য।’ তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা যারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন আর কিছুদিন ধৈর্য্যরে সঙ্গে আপনারা অপেক্ষা করুন গণতন্ত্রের জন্যে এবং সবাইকে বিরত রাখুন কেউ যেন অন্যায় কাজ করতে না পারে। বিএনপি কোনোদিন কোনো অন্যায়কে সমর্থন করেনি। বিএনপি কখনো করবে না। বিএনপি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা অতীতেও করেছে এবং এবারও করবে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে বাংলাদেশে রাষ্ট্রব্যবস্থা, রাষ্ট্রকাঠামোর পরিবর্তন করে একটা নির্বাচন দ্রুত চাই। কারণ গণতন্ত্রের কোনো বিকল্প নেই। আর গণতন্ত্রের প্রথম পদক্ষেপ হচ্ছে নির্বাচন। নির্বাচন নেই বলে আজকে দেশে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটছে, মৃত্যু বাড়ছে, দুর্বৃত্তরা সুযোগ নিচ্ছে। কারণ তাদের পেছনে জনগণের সমর্থন নেই। কিন্তু একটা নির্বাচিত সরকার আসলে নিঃসন্দেহে সেটা শক্তিশালী সরকার হবে। আমি আবারও এই আশার কথা বলতে চাই যে, আমরা নিশ্চয়ই সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ থেকে একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হবো।’
ছাত্রদলের আত্মত্যাগকারী শহীদদের নিয়ে একটি পুস্তক তৈরি করার পরামর্শ দিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে শহীদদের যথাযথ সম্মান দেবে।’ জুলাই-আগস্টের শহীদ এবং আহতদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আবারও দাবি জানান তিনি।
ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় শহীদ পরিবারের সদস্য ছাড়াও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল বক্তব্য রাখেন।
