সন্তান প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পূর্বে বাবা মারা গেলে তাকে এতিম বলা হয়। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর সন্তান আর এতিম থাকে না। হজরত আলি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, ‘আমি রাসুল (সা.)-এর কাছ থেকে শুনে মুখস্ত করে নিয়েছি, প্রাপ্তবয়স্ক হলে কেউ এতিম থাকে না।’ (সুনানে আবু দাউদ ২৮৭৩)
এতিম লালন-পালন, এতিমের প্রতি সহানুভূতি, দয়া, ভালো আচরণ এবং তাদের অধিকার ও সম্পদ সংরক্ষণে জোর তাগিদ দিয়েছে ইসলাম। এতিম বলে কেউ কেউ তাদের সঙ্গে কঠোর আচরণ করে। কিন্তু মহান আল্লাহ তাদের প্রতি কঠোর হতে নিষেধ করেছেন। এ প্রসঙ্গে ইরশাদ হয়েছে, ‘এতিমের প্রতি আপনি কঠোর হবেন না।’ (সুরা দুহা ৯) এতিমের সম্পদ হেফাজতের গুরুত্ব অনেক। এতিম সন্তানকে আদর-স্নেহ করা, নিজ সন্তানের মতো দেখা মহৎ হৃদয়ের পরিচায়ক। এতিম সন্তান প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর তাদের মধ্যে নিজের সম্পদ সংরক্ষণের জ্ঞানবুদ্ধি হয়েছে কি না, তা যাচাই করতে হবে। সম্পদ হস্তান্তরের যোগ্য মনে হলে ওয়ারিশ সূত্রে বা অন্য কোনো উপায়ে প্রাপ্ত সম্পদ তাদের কাছে হস্তান্তর করতে হবে।
প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগ পর্যন্ত তার সম্পদ কুক্ষিগত করে না রেখে তা বৈধ পন্থায় বৃদ্ধির চেষ্টা করতে হবে। এতিম শিশু বড় হলে সম্পদ হাতছাড়া হয়ে যাবে, এ ভয়ে তাদের মাল অপচয় ও তাড়াহুড়ো করে খরচ করা মারাত্মক অন্যায়। অবশ্য এতিমের দায়িত্বপ্রাপ্ত অসচ্ছল হলে প্রয়োজন অনুপাতে খরচ করতে পারবে। এটা হবে তার পারিশ্রমিক। ভরণপোষণকারী ধনী হলে তার জন্য এতিমের সম্পদ ভক্ষণ করা জায়েজ নেই।
এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর এতিমদের যাচাই করতে থাকো, যে পর্যন্ত না তারা বিয়ের বয়সে উপনীত হয়। অতঃপর যদি তাদের মধ্যে সুবুদ্ধি দেখো, তবে তাদের ধনসম্পদ তাদের কাছে অর্পণ করে দাও। তারা বড় হয়ে যাবে, এ ভয়ে তাদের সম্পদ অপচয় ও তাড়াহুড়ো করে খেয়ে ফেলো না। যে অভিভাবক স্বচ্ছল সে যেন (এতিমের সম্পদ থেকে) বিরত থাকে। আর যে অভাবী সে তা থেকে ন্যায়সংগতভাবে ভোগ করবে।’ (সুরা নিসা ৬)
এতিমের সম্পদ গ্রাস করার পরিণত ভয়াবহ। এতসব নিষেধাজ্ঞার পরও যারা এতিম সন্তানের মাল আত্মসাৎ করে তারা মূলত এতিমের সম্পদ নয়, বরং নিজেদের পেটে জাহান্নামের আগুন প্রবেশ করায়। এ প্রসঙ্গে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই যারা এতিমের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করে তারা নিজেদের পেটে আগুনই ভরে এবং তারা শিগগিরই প্রবেশ করবে জ্বলন্ত আগুনে।’ (সুরা নিসা ১০)
কোরআন ও হাদিসের বিধিনিষেধ পুরোপুরি মেনে যারা সঠিকভাবে এতিমের দেখাশোনা ও লালন-পালন করবে তারা দুনিয়ায় তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথ পালনে সফল। পরকালে তাদের জন্য রয়েছে মহাপুরস্কার।
এতিম সন্তান লালন-পালনকারীর মর্যাদা অনেক। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেন, ‘বিধবা ও গরিবদের জন্য চেষ্টা-সাধনাকারী ব্যক্তি আল্লাহর পথে জিহাদকারীর এবং যে ব্যক্তি দিনে রোজা রাখে ও রাতে (নফল) নামাজে লিপ্ত থাকে তার সমতুল্য।’ (আদাবুল মুফরাদ ১৩০)
যে ব্যক্তি নিজ খরচে কোনো এতিমের ভরণপোষণের দায়িত্ব নেবে জান্নাতে তার অবস্থান হবে নবী করিম (সা.)-এর পাশাপাশি। নবী করিম (সা.) বলেন, ‘আমি এবং এতিমের ভরণপোষণকারী বেহেশতে এই দুইটি মধ্যমা ও তর্জনি আঙুলের মতো একত্রে থাকব।’ (আদাবুল মুফরাদ ১৩২) মহান আল্লাহ আমাদের যথাযথভাবে এতিমের লালন-পালনের তওফিক দান করুন। আমিন।
