ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নিতে ইইউতে বিভক্তি

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২৫, ০৭:২৯ এএম

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলক যোগদান ইস্যুতে দেশটির সরকারে অস্বস্তি বাড়ছে। কট্টর ডানপন্থি দল ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম (ইউটিজে) প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ত্যাগের হুমকি দেওয়ায় নতুন উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীতে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করা দেশটির সব নাগরিকের জন্য বাধ্যতামূলক। তবে ইয়েশিভা শিক্ষার্থীরা (ধর্মতত্ত্ব নিয়ে অধ্যয়নরত) দীর্ঘদিন এই নিয়মের বাইরে ছিল। ইউটিজের সাতজন সদস্য নেসেটে (পার্লামেন্ট) যোগ দিয়েছিলেন। দলের প্রধান ইয়িতঝাক গোল্ডনোফপ আগেই পদত্যাগ করেছেন। এবার বাকি ছয়জনের মধ্যে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন দেগেল হাতোরাহ এবং আগুদাত ইয়িসরায়েল। ফলে পার্লামেন্টের ১২০ আসনের মধ্যে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে থাকবে ৬১টি, যা তাকে খুবই সূক্ষ্ম সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিচ্ছে।

দেগেল হাতোরাহ জানান, প্রধান ধর্মযাজকদের সঙ্গে পরামর্শ করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকার ইয়েশিভা শিক্ষার্থীদের পবিত্র ধর্মীয় শিক্ষার মর্যাদা রক্ষায় বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। তাই আমরা সরকার ও জোট থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিচ্ছি। গোল্ডনোফপের মুখপাত্র জানিয়েছেন যে, বাকি ইউটিজে সদস্যরাও শিগগিরই পদত্যাগ করছেন। এতে, সরকার টিকিয়ে রাখতেই ঘাম ছুটে যাবে নেতানিয়াহুর। আরেক ডানপন্থি দল শাসও একই পথে হাঁটতে পারে। ইয়েশিভা শিক্ষার্থীদের সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলক যোগদানের আওতামুক্তির শর্তেই ২০২২ সালে নেতানিয়াহুর সঙ্গে জোট গড়েছিল ডানপন্থি দলগুলো। এই শর্তের হেরফের হলে জোট ত্যাগের হুমকি একাধিকবার দিয়েছে ডানপন্থি দলগুলো। তবে বাকি দলগুলো এই আইনে কোনো ছাড়ের সম্পূর্ণ বিরোধী ছিল। এর মধ্যেই গত বছর দেশটির সর্বোচ্চ আদালত ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের জন্যও সেনাবাহিনীতে যোগদানের রায় দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে থাকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করে আসছেন নেতানিয়াহু। তবে বাধ্যতামূলক যোগদানের নতুন ধারা নিয়ে পার্লামেন্টে বিভক্তি দূরীকরণের কোনো আপাত সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।

এদিকে, গাজায় যুদ্ধ-নৃশংসতার জন্য ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। গতকাল মঙ্গলবারের এই বৈঠকে মানবাধিকার প্রশ্নে ইসরায়েলের সঙ্গে সহায়তা চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের পর গাজা সংকট সমাধানে সম্ভাব্য ১০টি পদক্ষেপ তুলে ধরেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কাল্লাস। তবে এ বৈঠক থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা আসেনি। কাজা কাল্লাস বলেন, আমাকে শুধু সম্ভাব্য পদক্ষেপের তালিকা দিতে বলা হয়েছে। এখন সিদ্ধান্ত নেওয়া সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাজ। এসব পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে তেল আবিবের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক ছিন্নকরণ, তাদের মন্ত্রীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ, অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা, ভিসাবিহীন ভ্রমণ সুবিধা স্থগিতকরণ ইত্যাদি। তবে গাজা নিয়ে বারংবার উদ্বেগ প্রকাশ করলেও, চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তের বিষয়ে একমত হতে পারেনি ইইউ সদস্যরা। কাল্লাস জানান, ত্রাণের জন্য নতুন প্রবেশপথ খোলা ও খাদ্য সরবরাহ বৃদ্ধির বিষয়ে ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সারের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছেন তিনি।

গাজায় প্রায় ২০ লাখ মানুষ ভয়াবহ মানবিক সংকটে রয়েছে। হামাসকে কাবু করার অজুহাতে সেখানে ত্রাণ সহায়তা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে ইসরায়েলি বাহিনী। কিছুটা অগ্রগতি হচ্ছে দাবি করে কাল্লাস বলেন, আরও ট্রাক সেখানে যাচ্ছে। কিন্তু আমরা জানি, এটা যথেষ্ট নয়। বাস্তবে প্রতিশ্রুতি কার্যকর করতে আরও চাপ দিতে হবে। ব্রাসেলসে সোমবার আয়োজিত ইইউ এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর বৈঠকে জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদি গাজার পরিস্থিতিকে ‘বিপর্যয়কর’ বলে বর্ণনা করেন। একই বৈঠকে ইসরায়েলি মন্ত্রী গিডিওন সার আত্মবিশ্বাসী সুরে বলেন, ইইউ কোনো পদক্ষেপ নেবে না। সার বলেন, এই পদক্ষেপগুলোর কোনো যৌক্তিকতা নেই। এগুলোর একটিও ইইউ গ্রহণ করবে না বলেই আমি নিশ্চিত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত