শরিফুলের শেষ ওভারে ২২ রান নিয়ে শ্রীলঙ্কার ১৩২

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২৫, ০৯:২৬ পিএম

শেষ ওভারে শানাকার ব্যাটে উঠল ঝড়। তাণ্ডবের সেই ওভারে শরীফুল ইসলাম দিলেন ২২ রান—যার মাঝে ছিল দুটি চার, দুটি ছক্কা। একটি ছক্কা তো উড়ল ১০২ মিটার দূর! যেন ম্যাচের শেষ মুহূর্তে আকাশে উড়ল শ্রীলঙ্কার সম্মানের পতাকা।

তবু শেষ পর্যন্ত ইনিংস শেষে স্কোরবোর্ডে তাদের রান মাত্র ১৩২/৭, যা টি–টোয়েন্টির প্রেক্ষাপটে খুব বড় কোনো সংগ্রহ নয়। বরং লিটন দাসদের মুখে স্বস্তির ছাপ—এই রান তাড়া করা মোটেও অসম্ভব কিছু নয়। বাংলাদেশের জয়ের জন্য প্রয়োজন ১৩৩ রান।

তবে এ রান থামিয়ে রাখার কৃতিত্ব সবচেয়ে বেশি যে মানুষটির, তিনি মেহেদী হাসান মিরাজ। বল হাতে ছিলেন অবিশ্বাস্য। ৪ ওভারে মাত্র ১১ রান দিয়ে তুলে নিয়েছেন ৪টি উইকেট! সঙ্গে ছিল একটি উইকেট মেডেন। প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের নাকানি–চুবানি খাইয়ে যেন মাঝ ইনিংসে থমকে দিয়েছিলেন লঙ্কানদের গতি।

ইনিংসের প্রথম ওভারে বোলিং শুরু করেছিলেন শরীফুল ইসলাম। প্রথম দুই বলেই চার আর তিন রান তুলে নেয় লঙ্কান ব্যাটাররা। এর মধ্যেই আলো প্রতিফলনের কারণে আম্পায়ারের হাতঘড়ি খুলতে বলেন কুশল মেন্ডিস। কিন্তু শেষ হাসি হাসেন শরীফুলই। ওভারের শেষ বলেই ফ্লিক করতে গিয়ে স্কয়ার লেগে হৃদয়ের হাতে ধরা পড়েন মেন্ডিস (৪ বলে ৬)।

দ্বিতীয় ওভারেই মিরাজ জ্বলে উঠলেন। অফ স্পিনের ধারালো ডেলিভারিতে স্লিপে তানজিদের হাতে ক্যাচ বানিয়ে ফেরালেন কুশল পেরেরাকে (০)। এরপর আর থেমে থাকেননি। চতুর্থ ওভারে আবার ফিরিয়ে দিলেন দিনেশ চান্ডিমালকে—মাত্র ৫ বল খেলে ৪ রান করেই ফিরতে হয় তাকে।

শ্রীলঙ্কা যখন ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিল, তখন হানা দিলেন শামীম হোসেন। তানজিমের আগের ওভারে চার–ছক্কা মারা কামিন্দু মেন্ডিস রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে ধরা পড়েন তানজিমের হাতেই—১৫ বলে ২১ রান করে।

অন্যদিকে, মোস্তাফিজুর রহমান ছিলেন তার চিরচেনা ছন্দে। ৪ ওভারে দিয়েছেন মাত্র ১৭ রান। উইকেট এসেছে একটা, কিন্তু সেটার চেয়েও বেশি প্রশংসা পাবে তার কৌশল। মিড অফের ওপর দিয়ে খেলতে যাওয়া ভ্যান্ডারসে ধরা পড়েন তানজিমের হাতে—স্লোয়ারে বোকা বানান তাকে কাটার মাস্টার।

শুরুটা ভালো করতে পারলেও ৬ ওভার পার হতে না হতেই দৃশ্যপট পাল্টে যায়। ১০ ওভার শেষে শ্রীলঙ্কা ৬৬/৪। উইকেট পড়তে থাকে নিয়মিত বিরতিতে। পাথুম নিশাঙ্কা ৩৯ বলে ৪৬ রানের ইনিংস খেললেও একপ্রান্তে ছিলেন একা। ১১তম ওভারে মিরাজের বলেই ধরা পড়েন তিনি—নিজেই নিয়েছিলেন ক্যাচ। সেই ওভারটিও ছিল মেডেন।

একের পর এক ধাক্কায় ম্যাচে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নেয় বাংলাদেশ। তবে শেষের দিকে শরীফুলের শেষ ওভারে শানাকার হাত ধরে রান ওঠে হঠাৎ করেই। ১৯তম ওভারে ১১০, আর ২০তম ওভারে ২২ রান উঠতেই শ্রীলঙ্কা পেরোয় ১৩০ রানের গণ্ডি।

শানাকার শেষ ওভারের ক্যামিও হয়তো শ্রীলঙ্কাকে কিছুটা আত্মবিশ্বাস দেবে, কিন্তু বাস্তবতা বলছে—এই পিচে ও কন্ডিশনে ১৩৩ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিং করা তুলনামূলকভাবে সহজ। এখন দেখার বিষয়, মেহেদী–মোস্তাফিজ–শামীমদের সেই বোলিং কীর্তিকে কেমনভাবে সঙ্গ দেন লিটন–তানজিদরা।

ব্যাট হাতে যদি শুরুটা ভালো হয়, তাহলে সিরিজ জয়ের স্বপ্নে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না শানাকার সেই শেষ ওভারের ঝড়। লক্ষ্য খুব একটা বড় নয়, আত্মবিশ্বাস থাকলে জয়ও বেশি দূরে নয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত