বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্কের বিষয়ে অংশীজন সভা করছে ধারাবাহিকভাবে। শুল্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় তিন দিনের আলোচনা শেষে রবিবার দেশে ফিরে ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদদের সঙ্গে সভা করে। এরপর বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শুরু করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
এরই অংশ হিসেবে গতকাল বুধবারের সভাটি হয় ১১টি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে। বুধবার বেলা ১১টায় ওই আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে অর্থ, কৃষি, খাদ্য, পরিবেশ, জ¦ালানিসহ ১১ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের (বিটিটিসি) প্রতিনিধি ছিলেন ওই বৈঠকে। বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বৈঠকে সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, আমেরিকার যেসব শর্ত বাংলাদেশকে দিতে চায়, সেসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্তব্য নেওয়া হয়েছে। আগামী কয়েক দিন পর্যায়ক্রমে এমন বৈঠক হবে আরও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তৃতীয় পর্যায়ের আলোচনার ইস্যুগুলোতে ওইসব বিষয়ে মতামত দিতে হবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের। তার আগে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে।
বৈঠক শেষে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের যে শুল্ক আলোচনা চলছে সেখানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার বিষয়গুলো রয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মতামতগুলো আমাদের নিতে হচ্ছে। এটা প্রসেস। তিনি বলেন, এমন বৈঠক এখন চলতে থাকবে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মতামত নিয়ে একটা প্রস্তাব ফাইনাল করে আবার আলোচনা হবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তৃতীয় দফায় বৈঠকের জন্য সময় পাওয়া গেছে কি না এ প্রশ্নের জবাবের বাণিজ্য সচিব বলেন, তারা এখনো নির্দিষ্ট সময় দেয়নি। আমরা যোগাযোগ করছি।
আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে কোন কোন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে সে বিষয়ে জানতে চাইলে সচিব বলেন, আমরা যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্যসহ বেশ কিছু পণ্য আমদানি করি। সেগুলো বিষয়ে স্ব স্ব মন্ত্রণালয়ের কিছু আইন-কানুন রয়েছে। সেগুলো আইন সম্পর্কে, তাদের ব্যবস্থাপনা কি? তারা কীভাবে কি করছে, সেগুলো জানতে চাওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এটা বৈশি^ক প্রক্রিয়া। সারা বিশ্ব যে পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করে, আমরা সেটাই করছি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আগের একটি বৈঠকে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদদের সূত্রে জানা যায়, বাণিজ্যসংক্রান্ত বিষয়গুলোতে বাংলাদেশ ছাড় দিয়েও দরকষাকষি করতে পারছে। কিন্তু যেসব বিষয় শুল্ক ইস্যুর বাইরে সেগুলো নিয়েই বিপত্তি তৈরি হয়েছে। এখানেই দরকষাকষি আটকে আছে। কারণ এখানে আমেরিকা নিজেদের মতো করে বাংলাদেশের সঙ্গে তৃতীয় কোনো দেশের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতে চাচ্ছে।
সরকার পক্ষ চুক্তির দোহাই দিয়ে আমেরিকার দেওয়া শর্তগুলো প্রকাশ না করলেও আলোচনা রয়েছে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য সীমিত করার বিষয়টি। সূত্রগুলো বলছে, বাংলাদেশ যাতে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য সীমিত করে এবং আমেরিকা চীনের বিরুদ্ধে যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বাংলাদেশকেও ঠিক একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে। যে বিষয়ে বাংলাদেশ রাজি নয়।
এসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এর আগেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্টের (গোপনীয়তার চুক্তি) কারণে দর-কষাকষি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলেনি সরকারের উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
