সাংবাদিক মুন্নী সাহা ও তার পরিবারের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০২৫, ০৭:৫৯ এএম

সাংবাদিক মুন্নী সাহা ও তার স্বামী কবির হোসেনসহ পরিবারের সদস্যদের ৩৩টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছে আদালত। গতকাল বুধবার দুদকের উপপরিচালক ইয়াছির আরাফাত তাদের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আবেদন করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. ইব্রাহিম মিয়া এ আদেশ দেন।

আবেদনে বলা হয়, মুন্নী সাহা ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে অবৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জন ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে দুদকের অনুসন্ধান চলছে। রেকর্ডপত্র অনুযায়ী, অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের নামে অসংখ্য ব্যাংক হিসাব ও তাতে অনেক ‘সন্দেহজনক লেনদেনের’ তথ্য পাওয়া গেছে। এসব হিসাবে ১৮ কোটি ১৬ লাখ রয়েছে, যা তারা উত্তোলন করে বিদেশে পাচারের চেষ্টা করছে। অনুসন্ধানের তথ্য অনুযায়ী অভিযুক্ত ও তার পরিবারের সদস্যদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট যে সব অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে, তা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ও দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা মতে অবরুদ্ধ করা আবশ্যক। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মুন্নী সাহা, তার মা আপেল রানী সাহা, স্বামী কবির হোসেন তাপস, দুই ভাই তপন কুমার সাহা ও প্রণব কুমার সাহার ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দেয়।

এর আগে গত ৩ জুন সাংবাদিক মুন্নী সাহা, তার মা আপেল রানী সাহা, স্বামী কবির হোসেন তাপস, দুই ভাই তপন কুমার সাহা ও প্রণব কুমার সাহার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেয়। ২০২৪ সালের ৩০ নভেম্বর কারওয়ান বাজারে নিজের অফিস থেকে বেরিয়ে এক দল লোকের ঘেরাওয়ের মুখে পড়েন মুন্নী সাহা। পরে তাকে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয় এবং চার ঘণ্টা পর পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের ৬ অক্টোবর মুন্নী সাহার সব ধরনের ব্যাংক হিসাবের তথ্য জানতে চেয়ে সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চিঠি পাঠায় বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। চিঠিতে তার আমানত, ঋণ, ক্রেডিট কার্ড, ফরেন ট্রেড, এক্সচেঞ্জ, লকার ও অফশোর ব্যাংকিংয়ের তথ্য চাওয়া হয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে দুদক মুন্নী সাহা এবং তার স্বামীর বিরুদ্ধে ‘জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের’ অভিযোগ খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত