স্বপ্না আক্তারের অপপ্রচার ও চাঁদাবাজির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২৫, ১২:১১ এএম

সাংবাদিকতার নামে চাঁদাবাজি ও অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে নীলফামারীর লক্ষীচাপ ইউনিয়নে স্বপ্না আক্তার স্বর্ণালি শাহ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয়রা। এ বিষয়ে গতকাল বুধবার ইউনিয়নবাসীর পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়।

টানা বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে শতাধিক মানুষ এদিন ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা স্লোগান দেন এবং দাবি জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে হবে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৮ জুলাই ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে স্বপ্না আক্তার কমপক্ষে তিনজনের কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায় করেন। এক ভুক্তভোগী জানান, তিনি নিজের উঁচু জমির বালু নিচু জায়গায় তুলছিলেন। সেই সময় স্বপ্না ও তার সঙ্গে থাকা লোকজন ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে টাকা আদায় করেন।

তবে এখানেই থেমে থাকেনি অভিযোগ। ওই এলাকার এক তরুণী—ববিতা রানির দাবি, বিয়ের দাবিতে তিনি প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। তখন স্বপ্না ও তার দলবল উভয় পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেন এবং ববিতাকে জোর করে সেখান থেকে বের করে এনে স্থানীয় ইউপি সদস্য জগদীশ চন্দ্র রায়ের বাড়িতে রাখার চেষ্টা করেন।

বিষয়টি জানাজানি হলে তরুণীর পরিবারের সদস্যরা ও এলাকাবাসী স্বপ্নার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্বপ্না ও তার সঙ্গীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। পরে চেয়ারম্যান আমিনুর রহমানের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

তবে ঘটনার পরপরই স্বপ্না আক্তার বিভিন্ন মিডিয়ায় দাবি করেন, তিনি নাবালিকার বিয়ে ঠেকাতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন। এ নিয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং স্থানীয় কিছু সংবাদপত্রেও প্রতিবেদন ছাপিয়েছেন। তবে তরুণী ববিতার জন্মসনদ ঘেঁটে দেখা গেছে, তিনি ইতোমধ্যেই ১৮ বছর অতিক্রম করেছেন এবং দুই পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়েও সম্পন্ন হয়েছে।

ববিতা অভিযোগ করেন, ‘স্বপ্না ও তার দলবল আমাকে ভয় দেখিয়ে ও হুমকি দিয়ে প্রেমিকের (বর্তমানে স্বামী) বাড়ি থেকে জোর করে তুলে নিয়ে যায়।’

ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান বলেন, ‘ঘটনার পর আমরা স্থানীয় বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি নেতাসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বৈঠকে বসি। সেখানে মেয়েটির নিরাপত্তার স্বার্থে সিদ্ধান্ত হয়, তাকে পরিবারের জিম্মায় অথবা পুলিশের হেফাজতে দেওয়া হবে। কিন্তু স্বপ্না দাবি করেন, মেয়েটিকে স্থানীয় এক মেম্বারের বাড়িতে রাখতে হবে। অথচ ওই মেম্বার ৫ আগস্টের পর থেকে পলাতক। তার বাড়িতে আমরা কীভাবে কাউকে হেফাজতে রাখি?’

তিনি আরও বলেন, ‘পরে শুনি, ওই কথিত সাংবাদিক আমার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। পুলিশ তদন্ত করে কোনো সত্যতা পায়নি, তাই মামলা নেয়নি। এরপর শুনি, তিনি আদালতে আমার নামে মামলা করেছেন।’

স্বপ্না আক্তারের স্বামী সোহেল রানাও থানায় একটি অভিযোগ জমা দেন। এ বিষয়ে নীলফামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আর সাঈদ বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছিলাম। তবে তদন্তে অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।’

এদিকে সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান বলেন, ‘আমি শুনেছি, স্বপ্না ও তার লোকজন ৪০ হাজার টাকা নিয়ে ওই ববিতাকে ছেলেদের বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। এখন তারা সেটা স্বীকার করবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘ওরা এখন বলে বেড়াচ্ছে আমি আওয়ামী লীগের দোসর। অথচ দেখা গেছে, স্বপ্নাই আওয়ামী লীগের লোকজনের সঙ্গে চলাফেরা করছেন।’ এ সময় তিনি একটি ছবি সাংবাদিকদের দেখান।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ভুক্তভোগী দিলীপ কুমার নামে এক ব্যক্তি বলেন, ‘নিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে স্বপ্না ও তার লোকজন আমার কাছ থেকে ২৮ লাখ টাকা নিয়েছেন। এখন কিছু বললেই হুমকি দিচ্ছেন।’ তিনি আরও জানান, ‘শেখ হাসিনার সরকার চলে গেলে আমাকে দেখে নেওয়া হবে—এমন হুমকি দিয়েছে স্বপ্নার বাবা।’

চোখে জল নিয়ে দিলীপ কুমার বলেন, ‘আমি এর বিচার চাই। আমার টাকা যেন ফেরত পাই।’

স্থানীয় শহিদার রহমান বলেন, ‘স্বপ্না নামের এক চাঁদাবাজ সাংবাদিক আমাদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছেন। আজ বৃষ্টি উপেক্ষা করে আমরা সবাই এখানে এসেছি। আমাদের দাবি—এ ধরনের সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। লক্ষীচাপ ইউনিয়নবাসীর এটাই দাবি।’

সংবাদ সম্মেলনে লক্ষীচাপ ইউনিয়নের বিএনপি সভাপতি, জামায়াত সভাপতি, এনসিপি নেতা ও এলাকার অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে স্বপ্না আক্তারের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত