একমাত্র ছেলে মাহতাব আইসিইউতে: অপেক্ষায় পরিবার

আপডেট : ২২ জুলাই ২০২৫, ০৮:২০ পিএম

রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ওপর বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় সপ্তম শ্রেণির ছাত্র মাহতাব রহমান ভূঁইয়া (১৫) দগ্ধ হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। তার শরীরের প্রায় ৭০ শতাংশ পুড়ে গেছে। সে এখন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন।

ঘটনার পর থেকেই হাসপাতালের বারান্দায় অশ্রুসজল চোখে অপেক্ষা করছেন মাহতাবের বাবা মিনহাজুর রহমান ভূঁইয়া। তার মুখে শুধু একটাই কথা—‘আমার একমাত্র ছেলেটা... আল্লাহ যেন ওকে ফিরিয়ে দেন।’

মাহতাবের বাড়ি কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার রাজামেহার ইউনিয়নের চুলাশ ভূঁইয়া গ্রামে। বাবার চাকরির সূত্রে পরিবারসহ রাজধানীর উত্তরায় বাস করছিল সে। বাবা মিনহাজুর রহমান নিয়মিতই ছেলেকে স্কুলে আনা–নেওয়া করতেন।

সোমবার (২১ জুলাই) দুপুরে ক্লাস শেষ হওয়ার কিছু সময় আগে হঠাৎ বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ। একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান ভবনে আছড়ে পড়ে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তেই চারপাশে ধোঁয়া আর চিৎকারে ভরে যায় স্কুল প্রাঙ্গণ। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা কেউ দৌঁড়াচ্ছে, কেউ নিখোঁজ, কেউ আহত।

ভয়ার্ত সেই সময়েই মাহতাবকে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা। দ্রুত তাকে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকেরা জানান, তার শরীরের বড় একটি অংশ আগুনে পুড়ে গেছে। এখনো তার জ্ঞান ফেরেনি।

এ বিষয়ে প্রতিবেশী আবুল খায়ের বলেন, ‘মাহতাব আমাদের এলাকার গর্ব ছিল। ভালো ছাত্র, ভদ্র ছেলে। এখন হাসপাতালের দরজায় দাঁড়িয়ে শুধু খবরের জন্য অপেক্ষা করছি। ওর মায়ের অবস্থা কল্পনাও করা যাচ্ছে না।’

মাহতাবের বাবা মিনহাজুর রহমান বলেন, ‘আমার একমাত্র সন্তান। চিকিৎসকেরা চেষ্টা করছেন, কিন্তু ওর অবস্থা ভালো না। দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই। আল্লাহ যেন আমার ছেলেকে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দেন।’

সোমবার দুপুরে সংঘটিত ওই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ জনে। আহত হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৭৮ জন। এর মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এখন পর্যন্ত ২০ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বিমান দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ শুরু করেছে বিমানবাহিনী ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত