প্রতিবন্ধী নারীদের জন্য প্রবেশগম্যতা বড় চ্যালেঞ্জ

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২৫, ০৬:২৪ এএম

দেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। জন্মগত প্রতিবন্ধিতার পাশাপাশি দুর্ঘটনা ও অন্যান্য কারণে অনেক সুস্থ মানুষ প্রতিবন্ধিতার শিকার হচ্ছেন। আইনে প্রতিবন্ধীদের জন্য নাগরিক সুবিধার কথা উল্লেখ থাকলেও, বাস্তবে তার প্রয়োগ নেই বললেই চলে। প্রতিবন্ধীরা সমাজে প্রায়ই অবহেলিত ও অসম্মানিত জীবনযাপন করেন। এর মধ্যে নারী প্রতিবন্ধীদের অবস্থা বিশেষভাবে নাজুক। যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অনেক নারীকে শুধু প্রতিবন্ধিতার কারণে কর্মক্ষেত্রে সুযোগ দেওয়া হয় না। আবার কাজ পেলেও অপ্রতুল প্রবেশগম্যতার কারণে নানা বাধার সম্মুখীন হতে হয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার দ্য ডেইলি স্টার ভবনের আজিমুর রহমান কনফারেন্স হলে ‘প্রতিবন্ধী নারীদের অন্তর্ভুক্তিমূলক অধিকার ও সেবা’বিষয়ক সেমিনারে প্রতিবন্ধী নারীরা তাদের ভোগান্তি ও অবহেলার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

উইমেন উইথ ডিজঅ্যাবিলিটিজ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের (ডব্লিউডিডিএফ) আয়োজনে এবং উইমেন্স ফান্ড এশিয়ার (ডব্লিউএফএ) আর্থিক সহযোগিতায় এ সেমিনার হয়। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অ্যাকসেস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অ্যালবার্ট মোল্লা।

ডব্লিউডিডিএফের চেয়ারপারসন ও কর্মসূচি পরিচালক শিরিন আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সায়েদুর রহমান খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. তানিয়া হক, এডিডি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক গোলাম ফারুক হামিম এবং বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের (বিএনএসকে) সভাপতি নাসিমুন আরা হক মিনু।

প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বি-স্ক্যানের প্রতিষ্ঠাতা ও মহাসচিব সালমা মাহবুব, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের (এমজেএফ) রাইটস অ্যান্ড গভর্ন্যান্সের সমন্বয়ক নাজরানা ইয়াসমিন হিরা এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম সিদ্দিকী। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ডব্লিউডিডিএফের শারমিন আক্তার দোলন এবং স্বাগত বক্তব্য দেন নির্বাহী পরিচালক আশরাফুন নাহার মিষ্টি।

মূল প্রবন্ধ ও আলোচনায় প্রতিবন্ধী নারীদের প্রবেশগম্যতা, আইন সংস্কার এবং এর কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়। প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন ২০১৩ এবং এর বিধিমালায় নারীদের সুনির্দিষ্ট চাহিদা ও ঝুঁকি বিষয়ে আরও বিস্তারিতভাবে অন্তর্ভুক্ত করে সময়োপযোগী সংস্কার করা এবং আইনের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়।

এ ছাড়া প্রতিবন্ধী নারীদের সঠিক সংখ্যা নিরূপণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা বিস্তার, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ এবং কর্মমুখী দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির কোটা বাস্তবায়ন, নারীবান্ধব কর্মপরিবেশ সৃষ্টি, উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রোগ্রামে অগ্রাধিকার এবং ব্যবসা শুরু ও সম্প্রসারণে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হয়।

অ্যালবার্ট মোল্লা তার প্রবন্ধে প্রতিবন্ধী নারীদের বর্তমান অবস্থা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। তিনি জানান, জাতীয় প্রতিবন্ধী ব্যক্তি জরিপ ২০২১ অনুযায়ী, প্রতিবন্ধী নারীদের শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার মাত্র ১১.৩৪ শতাংশ। এ ছাড়া প্রায় ৯৩ শতাংশ নারী কর্মসংস্থান থেকে বঞ্চিত, যেখানে পুরুষদের ক্ষেত্রে এই হার ৫৯ শতাংশ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত