রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার অধিকাংশ কমিউনিটি ক্লিনিক ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। জরাজীর্ণ এসব ভবনে ঝুঁকি নিয়ে সেবা দিচ্ছেন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডাররা (সিএইচসিপি)। এর মধ্যে সামান্য বৃষ্টিতেই অন্তত ১২টি ভবনের ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে।
এই অবস্থায় উপজেলার শত শত মানুষ প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করছেন। সেবার পরিবেশ এবং কাঠামোগত নিরাপত্তার অভাবে চিকিৎসা নিতে এসে রোগীদের পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তিতে।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্টের পরিচালক (মাঠ প্রশাসন) ডা. আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘নতুন ভবন করার যে প্রকল্প ছিল তার মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। প্রকল্পটি নবায়ন হলেই আমরা নতুন ভবনের দিকটি দেখব।’
বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৭ ইউনিয়নে ২৩টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। এসব ক্লিনিক ভবন নির্মিত হয়েছে অন্তত দুই দশক আগে। দীর্ঘদিনেও কোনো সংস্কার না হওয়ায় ভবনগুলো জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। কোমরদিয়া, বাধুলি খালকুলা, বারুগ্রাম, কাউন্নাইর, সাঙ্গুরা, দেলুয়াসহ ১২টি কমিউনিটি ক্লিনিকের ভবনের ছাদে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। অনেক দরজা-জানালা খুলে পড়েছে, দেয়াল থেকে পলেস্তরা খসে পড়ছে। বৃষ্টির সময় ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে ভেতরে কাদা জমে যায়।
বারুগ্রাম কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম রানা বলেন, ‘বৃষ্টি হলে বারুগ্রাম কমিউনিটি ক্লিনিকের ভবনের ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে, বিভিন্ন জায়গায় ছাদ খসে পড়ছে, যেকোনো মুহূর্তে ভবনটি ভেঙে পুকুরে চলে যেতে পারে। অনেক আগেই এটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা উচিত ছিল। অথচ ঝুঁকি নিয়ে এখানেই সেবা কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে।’
কয়েকজন সিএইচসিপি জানান, প্রায়ই মাথার ওপর পলেস্তরা খসে পড়ে। এমন অবস্থায় আতঙ্ক নিয়ে প্রতিদিন দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। একজন সিএইচসিপি বলেন, ‘প্রতিদিন চিন্তা হয় আজ না জানি কি হয়! তবুও আসি, কারণ রোগীরা তো আসে।’
পাকালিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে আসা রহিমা বেগম বলেন, ‘বৃষ্টি হলে বসার জায়গা থাকে না। ছাদে ফাটল, দেয়াল ভেজা। দেয়ালের সিমেন্ট-বালু খসে পড়ে। কিন্তু যেতেই হয়, কারণ অন্য কোথাও যাওয়ার সামর্থ্য নেই।’
বারুগ্রাম কমিউনিটি ক্লিনিকসহ কয়েকটি কমিউনিটি ক্লিনিক ঘুরে দেখা গেছে, কোনোটিতে ছাদে ফাটল, কোনোটিতে দেয়ালের রড বেরিয়ে এসেছে; রঙ উঠে গেছে, পলেস্তরা খসে পড়ছে।
বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ফারুক হোসেন বলেন, ‘২৩টি কমিউনিটি ক্লিনিকের মধ্যে ১২টি ঝুঁকিপূর্ণ। সামান্য বৃষ্টিতেই ছাদ দিয়ে পানি পড়ে, পলেস্তরা খসে পড়ে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভেঙে নতুন ভবন করার কোনো বিকল্প নেই। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে।’
বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
