১ বছরের ব্যবধানে বিএনপির আয় বেড়েছে ১৪ গুণ

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২৫, ০৭:৩০ এএম

নির্বাচন কমিশনে আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দিয়েছে বিএনপি। গত এক বছরে দলটির আয় ১৫ কোটি ৬৫ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪২ টাকা। যা আগের বছরের তুলনায় ১৪ গুণেরও বেশি। গতকাল রবিবার সকালে দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল এসে ইসি সচিব আখতার আহমেদের কাছে বিএনপির আর্থিক আয়-ব্যয় বিবরণী জমা দেন।

সাংবাদিকদের রিজভী জানান, ২০২৪ সালে বিএনপির আয় হয়েছে ১৫ কোটি ৬৫ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪২ টাকা। আর ব্যয় হয়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখ ৪ হাজার ৮২০ টাকা। উদ্বৃত্ত আছে ১০ কোটি ৮৫ লাখ ৯০ হাজার ১৯ টাকা।

এর আগে বিএনপি ২০২৩ সালে আয় দেখিয়েছিল ১ কোটি ১০ লাখ ৮০ হাজার ১৫১ টাকা। ব্যয় হয়েছিল ৩ কোটি ৬৫ লাখ ২৩ হাজার ৯৭০ টাকা। ২০২২ সালে বিএনপি আয় দেখায় ৫ কোটি ৯২ লাখ ৪ হাজার ৬৩২ টাকা এবং ব্যয় ৩ কোটি ৮৮ লাখ ৩৩ হাজার ৮০৩ টাকা।

রুহুল কবির রিজভী জানান, সদস্যদের মাসিক চাঁদা, বই ও পুস্তক বিক্রি, ব্যাংক সুদ এবং এককালীন অনুদান থেকে এ আয় হয়েছে। ব্যয় হয়েছে ব্যক্তিগত ও দুর্যোগকালীন সহযোগিতা, দলীয় কর্মসূচি, লিফলেট ও পোস্টার ছাপানোর পেছনে।

তিনি বলেন, গত ১৬-১৭ বছর ধরে নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান না থেকে সরকারের অনুগত প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন শেখ হাসিনার পদলেহন প্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছিল।

রিজভী আরও বলেন, দেশের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার জন্য যে সব প্রতিষ্ঠান তৈরি হয়েছিল যেমন স্বাধীন বিচার বিভাগ, স্বাধীন নির্বাচন কমিশন ও স্বাধীন গণমাধ্যম তা সরকার একে একে ধ্বংস করে দিয়েছে।

তিনি বলেন, এমন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও আমাদের কণ্ঠকে জাগিয়ে রাখতে হয়েছে। যার জন্য আমাদের নেতাকর্মীদের নানান নিপীড়ন ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।

বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, আমাদের প্রত্যাশা বর্তমান নির্বাচন কমিশনের প্রতি, দেশের মানুষের প্রত্যাশা, জনগণের প্রত্যাশা যারা দীর্ঘদিন ভোট দিতে পারেনি, যারা ভোটবঞ্চিত ছিল। অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনকে জাদুঘরে পাঠিয়েছিল শেখ হাসিনা। সেখান থেকে বর্তমান নির্বাচন কমিশন দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।

‘অবাধ, সুষ্ঠু ও ইনক্লুসিভ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য যাবতীয় কাজগুলো করা দরকার, সেই কাজগুলো তারা করবে। এবং এখন পর্যন্ত সংবিধানে নির্বাচন কমিশনের যে স্বাধীনতা আছে, সেই স্বাধীন বিধানগুলো প্রয়োগ করে নির্বাচন বানচাল অথবা নির্বাচনকে নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে সাহসী ভূমিকা রাখবে বলে বিএনপি বিশ্বাস করে।’

তিনি বলেন, মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী এখনো অনেক কিছু সম্ভব হয়ে ওঠেনি। এখনো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ততটা উন্নত হয়নি। তারপরেও মানুষের মধ্যে যে আশা জেগে উঠেছে কমপক্ষে শেখ হাসিনার দুর্বৃত্তপরায়ণ কোনো প্রশাসনের দ্বারা অথবা তার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারা এখানকার গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা নিপীড়নের শিকার হবে না। তাদের রিমান্ডের নামে অকথ্য অত্যাচার করা হবে না, তারা গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হবে না। গণতন্ত্রের অব্যাহত যাত্রার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের যে গুরুদায়িত্ব আছে, সেটা তারা পালন করবে। সব রাজনৈতিক দল ও গণতন্ত্রকামী মানুষের কাছে আস্থার প্রতীক হিসেবে বর্তমান নির্বাচন কমিশন গড়ে উঠবে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, যারা অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচনবিরোধী, যারা গণতন্ত্রকে বিপন্ন ও ধ্বংস করেছিল এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করেছিল সেই সমস্ত দোসররা তো বসে নেই। তারা নানা ভাবে, নানা কায়দায় ষড়যন্ত্রে ও চক্রান্তে মেতে উঠেছে। এগুলোকে চিহ্নিত করা বা দেখার দায়িত্ব অন্তর্বর্তী সরকারের। তারা কাজটি করবে। এর মধ্যে যে সময় আছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাবে, যাতে কোনো ভোটার যেন ভয় না পায়, তাদের মধ্যে যেন আশঙ্কা তৈরি না হয় এগুলো নিরসনের দায়িত্ব সরকারের।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত