অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ব্যাংকে সন্দেহভাজন লেনদেনের অভিযোগে বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান শেখ আব্দুল হান্নান ও তার স্ত্রী তাহমিদা বেগমের বিরুদ্ধে পৃথক দুইটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল রবিবার দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটির উপপরিচালক তানজির হাসিব সরকার বাদী হয়ে মামলা দুটি দায়ের করেন। দুদক মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান শেখ আব্দুল হান্নানের ৮ কোটি ৭৯ লাখ ২২ হাজার ৬৬৮ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৫ কোটি ৫০ লাখ ৭১ হাজার ১৬২ টাকার সম্পদ অর্জনের গ্রহণযোগ্য উৎস পাওয়া যায়। অবশিষ্ট ৩ কোটি ২৮ লাখ ৫১ হাজার ৫০৬ টাকার সম্পদ অর্জনের বৈধ কোনো উৎস পাওয়া যায়। তিনি এ পরিমাণ সম্পদ অবৈধ উপায়ে অর্জন করে নিজ ভোগ দখলে রাখা এবং তার ৬টি ব্যাংক হিসাবে মোট ১৪ কোটি ৮ লাখ ৫৭ হাজার ১৪৫ টাকা জমা এবং ১৩ কোটি ৫৫ লাখ ৯ হাজার ৫৫৬ টাকা উত্তোলনসহ প্রায় ২৭ কোটি ৬৩ লাখ ৬৬ হাজার ৭০১ টাকার সন্দেহভাজন লেনদেন করার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়।
অপর মামলার এজাহারে বলা হয়, বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান শেখ আব্দুল হান্নানের স্ত্রী তাহমিদা বেগম অবৈধ উপায়ে ১ কোটি ৯১ লাখ ৯০ হাজার ৩০৪ টাকা মূল্যের সম্পদ অর্জন করে নিজ ভোগ দখলে রাখা এবং তার ৩২টি ব্যাংক হিসাবে ১ কোটি ১৮ লাখ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগে আরও একটি মামলা হয়। অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে স্ত্রীকে অবৈধ সম্পদ অর্জনে সহায়তা করার অভিযোগে এ মামলায় শেখ আব্দুল হান্নানকে আসামি করা হয়।
দুদকের তথ্যমতে, এয়ার চিফ মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নানের অনিয়ম ও দুর্নীতির অনুসন্ধান চলাকালে গত ৬ মে আদালতের আদেশে জমিসহ তিনটি, ফ্ল্যাট ক্রোক ও ৬টি ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা হয়। ক্রোক হওয়া সম্পদের মধ্যে রয়েছে খিলক্ষেতে ছয়তলা ভবনের ষষ্ঠ তলার ৬৯৯ বর্গফুট ও ৮২৩ বর্গফুটের দুটি ফ্ল্যাট, মিরপুরের ডিওএইচএস এলাকায় ২২৫০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট, মিরপুরের সামরিক অফিসার আবাসিক প্রকল্পের নির্মাণাধীন সাততলা ভবন ও নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের সাত শতকের বেশি জমি। গত ৫ মে শেখ আব্দুল হান্নান, তার স্ত্রী তাহমিদা বেগম, ছেলে শেখ লাবিব হান্নান এবং মেয়ে সানজিদা আক্তারের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল আদালত।
