দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর পর জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার হলো মিয়ানমারে। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে গতকাল বৃহস্পতিবার দেশটি থেকে জরুরি অবস্থা তুলে নেওয়ার ঘোষণা দেয় জান্তা সরকার। ক্ষমতাসীন সামরিক সরকারের প্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইং এ সংক্রান্ত একটি লিখিত আদেশ জারি করেন। জান্তা মুখপাত্র জৌ মিন তুন জরুরি অবস্থা প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, বহুদলীয় গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পথ সুগম করতে পার্লামেন্ট নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার।
জাতীয় নির্বাচন পরিচালনার জন্য ১১ সদস্যের একটি কমিশন গঠন করেছে। এই কমিশনের নেতৃত্বে থাকছেন জান্তা প্রধান ও সেনাবাহিনীর সর্বাধিনায়ক মিন অং হ্লাইং। দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এমআরটিভি এ তথ্য জানিয়েছে। কমিশনের ঘোষণায় নির্বাচনের নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। তবে মিন অং হ্লাইং বুধবার জানিয়েছেন, আগামী ডিসেম্বর মাসে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর এটাই হতে যাচ্ছে দেশটির প্রথম জাতীয় ভোট। ২০২০ সালের নভেম্বরে সবশেষ নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী এবং দেশ জুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করে। ক্ষমতাচ্যুত হয় মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চি নেতৃত্বাধীন এনএলডি সরকার। গ্রেপ্তার হন সু চি ও তার দলের বিভিন্ন স্তরের কয়েক হাজার নেতাকর্মী। এর পর থেকে দেশ জুড়ে জান্তাবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়। জরুরি অবস্থা জারির সময় দেশটির সর্বময় কর্র্তৃত্ব সামরিক বাহিনী প্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তিনি একইসঙ্গে আইন প্রণয়ন, নির্বাহী ও বিচারবিভাগীয় ক্ষমতার অধিকারী হন। তবে সম্প্রতি তিনি সংঘাত নিরসনের পন্থা হিসেবে নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টি বারবার সামনে নিয়ে আসছেন।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, নির্বাচন পর্যন্ত মিন অং হ্লাইং অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবেই দায়িত্বে থাকবেন এবং একই সঙ্গে সেনাবাহিনীর প্রধান পদেও বহাল থাকবেন। এই কমিশন গঠনের মাধ্যমে জান্তা নেতৃত্বের ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার প্রবণতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে যেভাবে সন্দেহ রয়েছে, তাতে প্রশ্ন উঠছে এ ভোট কতটা স্বাধীন ও গ্রহণযোগ্য হবে। বুধবার মিয়ানমারের রাষ্ট্র পরিচালিত খবরের কাগজ মিয়ানমা আলিন দেশটিতে নতুন একটি কঠোর নির্বাচনী আইন কার্যকর হওয়ার কথাও জানিয়েছে। এতে নির্বাচনের বিরোধিতা বা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যেকোনো ধরনের বিঘœ সৃষ্টিতে তিন বছর থেকে শুরু করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, এমনকী কোনো কোনো ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের মতো শাস্তিরও বিধান রাখা হয়েছে, জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি বার্তা সংস্থা। ক্ষমতাসীন জান্তা গত কয়েক মাস ধরে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটিতে নির্বাচন আয়োজনের তোড়জোড় দেখালেও বিরোধী বিভিন্ন পক্ষ ও বিদ্রোহী গোষ্ঠী এই নির্বাচনে অংশ নেবে এমন সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। অভ্যুত্থানের সময় ক্ষমতাচ্যুত নেতা ও অন্য বিরোধী নেতা-কর্মীরা আসন্ন নির্বাচন বানচালের পরিকল্পনা করছে। গত মাসে জাতিসংঘের এক বিশেষজ্ঞ এই নির্বাচনকে ‘প্রহসনমূলক’ ও সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা আঁকড়ে রাখার চক্রান্তের অংশ হিসেবে আখ্যা দেন।
