পেঁয়াজ ডিমের দাম চড়া

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২৫, ০৭:১৪ এএম

সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে পেঁয়াজের দাম প্রতি কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার খুচরা বাজারে দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৭৫ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। একই সময়ে ফার্মের ডিমের দাম ডজনে ১৫ থেকে ২০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। ঢাকায় প্রতি ডজন ডিম (সাদা, লাল বা বাদামি) ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা বা তার বেশি দামে বিক্রি হয়েছে। যদিও বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় পেঁয়াজের দাম প্রতি কেজিতে ৩৫ টাকা কম। গত বছর এই সময়ে পেঁয়াজ প্রতি কেজি ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। অন্যদিকে, গত বছর লাল বা বাদামি ডিমের প্রতি ডজন ১৫৬ টাকায় বিক্রি হয়েছিল, যা বর্তমান দামের তুলনায় ১৫ থেকে ১৬ টাকা বেশি।

পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, বর্ষা মৌসুমে ডিমের উৎপাদন কিছুটা কমে গেছে। এ ছাড়া, অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে ডিমের চাহিদা বেড়েছে, ফলে দাম বাড়ছে। পেঁয়াজের ক্ষেত্রে, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মজুদ কমে যাওয়া এবং সংরক্ষণের অভাবে পেঁয়াজ পচে যাওয়া ও চারা গজানোর সমস্যা দেখা দিয়েছে। বাছাইয়ের পর ভালোমানের পেঁয়াজের সঙ্গে দাম সমন্বয়ের কারণে এর দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। কারওয়ান বাজারের পাইকারি পেঁয়াজ ব্যবসায়ী আশরাফ দেশ রূপান্তরকে জানান, পাবনার পেঁয়াজের দাম বর্তমানে কিছুটা বেশি। পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৭০ থেকে ৭২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা ১০ দিন আগে ছিল ৫৪ থেকে ৫৫ টাকা। তিনি এর জন্য আগের লোকসান এবং বৃষ্টির প্রভাবকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, বছরের শুরু থেকে পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা প্রতি কেজিতে ৮ থেকে ১০ টাকা বা তার বেশি লোকসান করেছেন, এমনকি কৃষকদেরও ক্ষতি হয়েছে। তবে দেশি পেঁয়াজ দিয়ে বছরের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। তিনি আরও জানান, বর্ষা মৌসুমে পেঁয়াজের দাম আরও কিছুটা বাড়তে পারে।

চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ হামিদুল্লাহ মিয়া মার্কেট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজি মো. ইদ্রিস দেশ রূপান্তরকে বলেন, বাজারে আমদানি পেঁয়াজ নেই, সবই দেশি পেঁয়াজ। গত সপ্তাহ থেকে মোকামে পেঁয়াজের দাম বাড়ছে। গতকাল আড়তে প্রতি কেজি পেঁয়াজের পাইকারি দাম ছিল ৬৫ থেকে ৭০ টাকা, যা আগের সপ্তাহে ৮ থেকে ১০ টাকা কম ছিল। তিনি জানান, দাম আরও বাড়তে পারে, আজ হয়তো আরও ৫ টাকা বৃদ্ধি পাবে। দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে তিনি বলেন, দেশি পেঁয়াজের সংরক্ষণ সমস্যা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বর্ষা মৌসুমে পেঁয়াজ পচে যাচ্ছে এবং অনেক পেঁয়াজে চারা গজাচ্ছে। এর ফলে বাছাইয়ে ঘাটতি হচ্ছে এবং পচা পেঁয়াজের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে দাম সমন্বয় করা হচ্ছে। তবে তিনি আশ্বাস দেন, আগের বছরগুলোর মতো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

গতকাল সেগুনবাগিচা বাজারে দেখা গেছে, প্রতি ডজন ডিম ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শুধু ডিম বিক্রির বড় দোকানগুলোতে দাম ১৩৫ এবং সাদা ডিম ১২৫ থেকে ১৩০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। তবে মহল্লার দোকানে ক্রেতাদের ডজনে আরও ৫ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে।

ডিমের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে তেজগাঁও ডিম ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. আমান উল্লাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, বর্ষা মৌসুমে খামারে মুরগির রোগবালাই বাড়ে, ফলে ডিমের উৎপাদন কমে যায়। একই সময়ে অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম বেশি থাকায় ডিমের চাহিদা বেড়েছে। এটিই দাম বৃদ্ধির মূল কারণ। তিনি বলেন, অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম কমলে ডিমের দামও কমবে।

তিনি জানান, গতকাল ঢাকার বাজারে ১০০ পিস লাল বা বাদামি ফার্মের ডিম ১ হাজার ২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৯০০ থেকে ৯২০ টাকা। অন্যদিকে ১০০ পিস সাদা ডিম ৯০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত