গাজা দখলের পরিকল্পনা 

নেতানিয়াহুর সিদ্ধান্তে সমর্থনের ইঙ্গিত ট্রাম্পের

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২৫, ০৭:৪৫ এএম

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার নিরাপত্তা মন্ত্রিসভায় গাজা উপত্যকা সম্পূর্ণভাবে দখলের চিন্তা করছেন বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি গণমাধ্যম। এমনকি নেতানিয়াহু সরকারের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়ে গেছে। এবার সিদ্ধান্ত চূড়ান্তের অপেক্ষা। এর পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, তিনি ইসরায়েলের গাজা দখলের সম্ভাব্য পরিকল্পনায় বাধা দেবেন না। তবে সম্ভাব্য এ পরিকল্পনাকে গভীর উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছে জাতিসংঘ। গত মঙ্গলবার নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে এ কথা বলেন জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব মিরোস্ল্যাভ জেনকা। এদিকে গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ৮৭ ত্রাণপ্রত্যাশীসহ নিহত অন্তত ১৩৫ ফিলিস্তিনি।

আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মঙ্গলবার নেতানিয়াহুর প্রস্তাবের বিষয়ে ইসরায়েলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের কথা বলা হয় ট্রাম্পকে। উত্তরে তিনি জানান, গাজায় মানুষের খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করাকে প্রধান গুরুত্ব দিচ্ছেন। ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, বাকি বিষয়গুলো সম্পর্কে আমি কিছু বলতে পারি না। সেটি পুরোপুরি ইসরায়েলের ওপর নির্ভর করবে। প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধানসহ শীর্ষ সামরিক নেতারা এ পরিকল্পনার বিরোধিতা করছেন এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, প্রতিরক্ষা প্রধান যদি এটা মেনে নিতে না পারেন, তাহলে তার পদত্যাগ করা উচিত। তবে জিম্মিদের পরিবারগুলো আশঙ্কা করছে, এ ধরনের পরিকল্পনা তাদের প্রিয়জনদের জীবনের ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, জিম্মি ৫০ জনের মধ্যে এখনো ২০ জন জীবিত রয়েছে।

জনমত জরিপে দেখা গেছে, প্রায় তিন-চতুর্থাংশ ইসরায়েলি নাগরিক যুদ্ধবিরতির পক্ষে, যাতে করে জিম্মিদের ফেরত আনার চুক্তি হতে পারে। ইসরায়েলের অনেক ঘনিষ্ঠ মিত্রও গাজা পুনর্দখলের এমন উদ্যোগের নিন্দা করবে বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ তারা যুদ্ধের অবসান এবং চলমান মানবিক সংকট লাঘবের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণে জোর দিচ্ছে। ইসরায়েলের অভ্যন্তরেও শত শত অবসরপ্রাপ্ত নিরাপত্তা কর্মকর্তা যাদের মধ্যে সাবেক গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানরাও আছেন। গত সোমবার ট্রাম্পের কাছে একটি যৌথ চিঠি পাঠিয়ে নেতানিয়াহুর ওপর যুদ্ধ বন্ধে চাপ সৃষ্টি করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এদিকে গাজা দখলের সম্ভাব্য ইসরায়েলি পরিকল্পনাকে উদ্বেগজনক বলেছে জাতিসংঘ। মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে এ কথা বলেন জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব মিরোসøাভ জেনকা। ইসরায়েলি পরিকল্পনার তথ্য সত্য হলে তার পরিণতি ভয়াবহ হবে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, গাজায় আটক থাকা বাকি জিম্মিদের জীবন আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। অভিযান সম্প্রসারণের আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে খুবই স্পষ্ট আন্তর্জাতিক আইন রয়েছে। গাজাকে ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

সম্ভাব্য পরিকল্পনার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের চীনের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি গেং শুয়াং। তিনি বলেন, সম্ভাব্য বিপজ্জনক সব পদক্ষেপ স্থগিত রাখতে আমরা ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানাই। গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে প্রভাবশালী দেশগুলোকে এগিয়ে আসার জন্যও আহ্বান জানান তিনি। জাতিসংঘ বৈঠকের আগে ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সার বলেছেন, ইসরায়েলের ওপর চাপ প্রয়োগ করে যারা কথিত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি আদায়ের চেষ্টা করছে, তারাই মূলত যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করা এবং জিম্মি মুক্তির চুক্তি নস্যাতের জন্য দায়ী।

অন্যদিকে, ইসরায়েলের আগ্রাসনে চলমান যুদ্ধে নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ৬১ হাজার ছাড়িয়েছে। বুধবার আলজাজিরা জানায়, গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ৮৭ ত্রাণপ্রত্যাশীসহ নিহত হয় অন্তত ১৩৫ ফিলিস্তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত