শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অনিয়ম, দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট চক্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার বরিশালের ছাত্রসমাজ ও সাধারণ মানুষ। দাবি আদায়ের দ্বাদশতম দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে এবার সড়ক অবরোধ করেছেন আন্দোলনকারীরা।
গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টায় বরিশালের নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকায় বরিশাল-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করেন আন্দোলনকারীরা। এই অবরোধ চলে বিকেল ৬টা পর্যন্ত। এতে বরিশাল শহর এবং ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচলে দীর্ঘস্থায়ী বিঘœ ঘটে, যার ফলে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হন।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, টানা ১২ দিনের আন্দোলন সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো কার্যকর সাড়া মেলেনি। বরিশালের রাজপথে বারবার স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কিংবা হাসপাতাল প্রশাসনের কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে আসেননি।
আন্দোলনকারী সংগঠক মহিউদ্দিন রনি বলেন, ‘আজকে (গতকাল) ১২ দিন পর্যন্ত বরিশালবাসী আন্দোলন করছে। কিন্তু বরিশালবাসীর কথা কি সচিবালয় পর্যন্ত পৌঁছায় না? বরিশালবাসীর কথা কি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যায় না? বরিশাল কি একটি আলাদা দেশ? এতগুলো দিন কেটে গেল, অথচ কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করলে না। আমরা মেডিকেলের সামনে আন্দোলন করেছি-তবুও তারা কোনো সাড়া দেয়নি।
আন্দোলনের মুখপাত্র নাভিদ নাসিফ বলেন, ‘শেবাচিম কর্তৃপক্ষের একজন প্রতিনিধি এসেছিলেন। তিনি আমাদের জানিয়েছেন যে, কিছুদিন পরে তারা মিটিংয়ে বসতে চান। কিন্তু আমাদের এই আন্দোলন কয়েকজন মানুষকে নিয়ে গঠিত নয়। এটি এখন বরিশালবাসীর আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। আমরা তাদের বিরুদ্ধে যেতে পারি না। এই আন্দোলনে যারা এখন সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছেন, তাদের মতামতের ভিত্তিতেই আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি এবং সেই সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে দিয়েছি।
মেট্রোপলিটন এয়ারপোর্ট থানার ওসি জাকির হোসেন সিকদার বলেন, নথুল্লাবাদ এলাকায় যেন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি না হয় সেজন্য আমরা উপস্থিত ছিলাম। জনদুর্ভোগের বিষয়টি আন্দোলনকর্মীদের বারবার বিবেচনা করার অনুরোধ করেছি।
