হিরোশিমার পর নাগাসাকিতেও পরমাণু যুদ্ধ নিয়ে সতর্কতা

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২৫, ১২:০২ এএম

জাপানের নাগাসাকি শহরের ইম্যাকুলেট কনসেপশন ক্যাথেড্রালে (উরাকামি ক্যাথেড্রাল) ভিড় জমায় অসংখ্য মানুষ। স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ২ মিনিট, যুগল এই ক্যাথেড্রালের দুটি ঘণ্টা একসঙ্গে বেজে উঠল; আর এই ঘণ্টাধ্বনি হলো শহরটিতে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক হামলার সেই মর্মান্তিক মুহূর্তের ৮০ বছর পূর্তিকে স্মরণ করে। নাগাসাকির এ স্মরণ অনুষ্ঠানে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবাসহ প্রায় ১০০টি দেশের প্রতিনিধিরা। ৮০তম বার্ষিকীতে জাপানের নাগাসাকির মেয়র বিশ্ব জুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত অবসানে ব্যবস্থা নিতে আকুল আবেদন জানিয়েছেন। সে ঘটনার স্মরণে দেওয়া শান্তি ঘোষণায় মেয়র শিরো সুজুকি বলেন, সংঘাত আর বিভাজনের এক নিষ্ঠুর চক্রে বিশ্ব জুড়ে দ্বন্দ্বগুলো তীব্রতর হচ্ছে। আমরা যদি এই পথেই চলতে থাকি, তাহলে শেষ পর্যন্ত নিজেদের পারমাণবিক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেওয়া হবে। ১৯৪৫ সালের ৯ আগস্ট হিরোশিমায় পারমাণবিক হামলার তিন দিন পর যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ-পশ্চিম জাপানের বন্দরনগরী নাগাসাকিতে বোমা নিক্ষেপ করে। নাগাসাকিতে প্রায় ৭৪ হাজার এবং হিরোশিমায় প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষ নিহত হয়। নাগাসাকির বোমাটি ছিল হিরোশিমার চেয়ে বড় ও বেশি শক্তিশালী, যার প্রভাবে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে অসংখ্য এলাকা নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল। বোমার তেজস্ক্রিয়তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় লাখ লাখ মানুষ লিউকেমিয়াসহ নানা গুরুতর রোগে আক্রান্ত হয়েও মারা পড়েছিল। পারমাণবিক বিস্ফোরণের কেন্দ্রবিন্দু থেকে কয়েকশ মিটার দূরে অবস্থিত উরাকামি ক্যাথেড্রাল প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। ১৯৫৯ সালে ক্যাথেড্রালটি পুনর্নির্মাণ করা হয়। বিশ্বকে শান্তির বার্তা দিতে পারমাণবিক হামলার পর প্রথমবার একসঙ্গে বেজেল উঠেছিল নাগাসাকির এই ক্যাথেড্রালের ঘণ্টা। এ অনুষ্ঠানে ছিল প্রতীকী ‘জল নিবেদন’ ৮০ বছর আগে বোমার বিস্ফোরণে যাদের চামড়া পুড়ে যাচ্ছিল, তারা পানির জন্য কাতর হয়ে পড়েছিল। তাদের স্মরণে হামলায় বেঁচে যাওয়াদের একজনসহ বিভিন্ন প্রজন্মের প্রতিনিধিরা জল নিবেদন করেন। নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা হামলার দিন বিস্ফোরণস্থল থেকে তিন কিলোমিটার দূরে ছিলেন ৯৩ বছর বয়সী হিরোশি নিশিওকা। সেদিনের ভয়াবহতার কথা মনে করে তিনি বলেন, এমনকি যারা বোমায় গুরুতর আহত হয়নি, তাদেরও দাঁতের মাড়ি থেকে রক্ত পড়তে শুরু করে, চুল ঝরতে থাকে এবং তারা একে একে মারা যাচ্ছিল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত