‘সততা শুধু একটি নীতি নয়, এটি একটি দায়িত্ব।
তরুণদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে ভবিষ্যতের দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ’ এই বিশ্বাসকে সামনে রেখে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (ঞওই) এর উদ্যোগে পরিচালিত ইয়েস (ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট) ফোরাম বহুদিন ধরেই বাংলাদেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলন প্রতিষ্ঠায় তরুণদের সম্পৃক্ত করতে ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই উদ্যোগ ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট (ইয়েস) নামে পরিচিতি লাভ করে। ২০০৮ সালে ঢাকায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক ইয়েস-এর পথচলা শুরু হয় এবং বর্তমানে এরূপ ১৫টি ইয়েস গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৯ সাল থেকে যাত্রা শুরু করে স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি ইয়েস ফোরাম। শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন ও সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে নিরলসভাবে কাজ করছে ফোরামটি। মূলত তিনটি উদ্দেশ্য সামনে নিয়ে ইয়েস পরিচালিত হয় দুর্নীতির নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে বাংলাদেশের তরুণদের সচেতন করা, দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলনে অংশগ্রহণে তাদেরকে উৎসাহিত ও সচেতন করা, তরুণদের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধ চর্চা ও অন্যান্য গুণাবলির বিকাশ ঘটিয়ে নেতৃত্বের দক্ষতা বৃদ্ধি করা, যেন তা দেশকে দুর্নীতি ও দারিদ্র্যমুক্ত করতে পারে। স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি ইয়েস ফোরাম নিয়মিতভাবে আয়োজন করে দুর্নীতিবিরোধী ক্যাম্পেইন, গণসচেতনতামূলক পোস্টার প্রদর্শনী, কার্টুন প্রদর্শনী, বিতর্ক ও রচনা প্রতিযোগিতা, শিক্ষামূলক সেমিনার এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক ক্যাম্পেইন। এছাড়াও প্রতি বছর ইয়েস ফোরাম জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে নানা আয়োজন করে থাকে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস, সুশাসন দিবস এবং তথ্য অধিকার দিবস। ফোরামটি প্রতিষ্ঠালগ্নের শুরু থেকেই ক্যাম্পাসে দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এরই স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৪ সালের ২৯ জুন ‘ফোরাম ও ক্লাব এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’-এ স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ১৭টি সক্রিয় ফোরাম ও ক্লাবের মধ্যে ইয়েস ফোরাম অর্জন করেছে ‘চেয়ারম্যান অ্যাওয়ার্ড ২০২৪’ এবং সম্মানজনক দ্বিতীয় স্থান। বছরব্যাপী সক্রিয়তা এবং ঞওই-এর মূলনীতি অনুসরণ করে ইয়েস ফোরাম স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ইয়েস-এর পুরস্কারপ্রাপ্তি নিয়ে ফোরামটির কনভেনর ড. মাহমুদা পারভিন বলেন, ইয়েস-এর কো-অর্ডিনেটর এবং সব সদস্যের বছরব্যাপী সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলাফল আজকের এই অর্জন। সামনে ক্যাম্পাসের বাইরেও ইয়েস-এর বার্তা পৌঁছে দিতে বদ্ধ পরিকর স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি ইয়েস ফোরাম।
