টানা বৃষ্টিতে সাড়ে ৭ হাজার হেক্টর জমি পানির নিচে

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২৫, ০১:৩৫ এএম

ঝিনাইদহে টানা বৃষ্টিতে জেলার ছয়টি উপজেলার প্রায় সাড়ে ৭ হাজার হেক্টর ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের উপযুক্ত ব্যবস্থা না থাকায় জমিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এতে ফসল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক কৃষক এখনো জমিতে নতুন করে ধান রোপণ করতে পারছেন না। ফলে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ঝিনাইদহের কৃষকরা। ঝিনাইদহ সদর, কোটচাঁদপুর, মহেশপুর, কালীগঞ্জ, হরিণাকু-ু ও শৈলকূপা উপজেলায় সবজি ক্ষেত, ধানের বীজতলা ও সদ্য রোপণ করা আমন ধান ডুবে গেছে।

ঝিনাইদহ কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, জেলার ছয়টি উপজেলায় এ পর্যন্ত প্রায় ৭ হাজার ৫০০ হেক্টর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে।

জানা যায়, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের তেতুলতলা, বিষয়খালী, মহারজপুরসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের জমিতে এখনো পানি জমে থাকায় নতুন করে ধান রোপণ করতেও পারছেন না কৃষকরা।

হরিণাকুন্ডু উপজেলার পোলতাডাঙ্গা গ্রামের কৃষক আব্দুল গফ্ফার জানান, টানা বৃষ্টিতে আমার দুই বিঘা জমির ধান পানিতে ডুবে আছে। আর এক বিঘা জমিতে বেগুন আবাদ করছিলাম। কিন্তু টানা বৃষ্টির কারণে সব তলিয়ে  গেছে।

শৈলকূপা উপজেলার চড়িয়ারবিল গ্রামের আলমগীর হোসেন জানান, আমার ১০ কাঠা মরিচ, দশ কাঠা পটল, পাঁচ কাঠা বেগুন আবাদ ছিল। টানা বৃষ্টির কারণে সব পানির নিচে তলিয়ে আছে। পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গাছগুলো মরে যাবে। আমি এ ক্ষতি কীভাবে পুষিয়ে উঠব বুঝতে পারছি না।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার লাউদিয়া গ্রামের কৃষক মাহবুবুর রহমান জানান, ‘আমার দুই বিঘা জমির ধান তলিয়ে গেছে। পানি কবে নামবে জানি না। পানি নেমে গেলে আবারও ধানের চারা রোপণ করতে হবে। কিন্তু এখন চারা পাব কোথায়।

কালীগঞ্জ উপজেলার তেতুলবাড়িয়া গ্রাামের কৃষক জাহিদ হাসান জানান, আমার ১০ কাঠা মরিচ ও ১০ কাঠা পটল পানিতে তলিয়ে আছে। পানি সরার সঙ্গে সঙ্গে গাছগুলো মরতে থাকবে।

কোটচাঁদপুর উপজেলার গুড়পাড়া গ্রামের কৃষক শাহাজান আলী জানান, গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে আমার এক বিঘা জমির ধান পানিতে ডুবে আছে। কম বেশি সব কৃষকের ক্ষতি হয়েছে। আমন ধান আদৌ ঘরে তুলতে পারব কি না জানি না।

মহেশপুর উপজেলার জলিলপুর গ্রামের মিজানুর রহমান জানান, আমার চার বিঘা জমির ধান পানির নিচেই তলিয়ে গেছে। আবারও নতুন করে ধানের চারা রোপণ করতে হবে। কিন্তু ধানের চারা পাব কোথায়।

ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ষষ্ঠি চন্দ্র রায় বলেন, ‘কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও প্রশাসনের সহায়তায় বাঁধ অপসারণের কাজ চলছে। বেশ কিছু জায়গায় সমস্যা সমাধান করা হয়েছে, বাকি অংশেও কাজ চলছে। যেখানে যেখানে বাঁধের কারণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছিল ইতিমধ্যে সেগুলো অপসারণ করা হয়েছে। বাকি সে সব বাঁধ এখনো অপসারণ করা হয়নি, সেগুলোও অপসারণের চেষ্টা করে যাচ্ছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত