পোশাক শিল্পে সহায়তা দেবে অস্ট্রেলিয়ার কেমার্ট

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২৫, ১২:৪৪ এএম

দেশের তৈরি পোশাক শিল্পকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার সর্ববৃহৎ একক পোশাক ক্রেতা প্রতিষ্ঠান কেমার্ট। কেমার্ট দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ থেকে পোশাক সংগ্রহ করছে। গতকাল সোমবার রাজধানীর উত্তরা বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধি দলের এক বৈঠকে এ আশ্বাস দেন তারা।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেমার্টের চিফ পিপল অ্যান্ড করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার, ট্রিস্ট্রাম গ্রে; হেড অব এথিক্যাল সোর্সিং, অ্যালবার্ট ইয়াং এবং কেমার্ট অস্ট্রেলিয়া অ্যান্ড নিউজিল্যান্ড অ্যান্ড টার্গেট অস্ট্রেলিয়ার এথিক্যাল সোর্সিং ম্যানেজার ওবায়েদ গাজী। বিজিএমইএর পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহসভাপতি ইনামুল হক খান, সহসভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম, মিজানুর রহমান ও মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী, পরিচালক ফয়সাল সামাদ, নাফিস-উদ-দৌলা এবং শেখ হোসেন মোহাম্মদ মোস্তাফিজ। বৈঠকে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশ থেকে পোশাক রপ্তানি কীভাবে আরও বাড়ানো যায়, সেটি নিয়েও উভয়পক্ষ আলোচনা করেছেন।

বিজিএমইএ জানিয়েছে, বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল টেকসই পোশাক শিল্প বিনির্মাণে সহযোগিতার সুযোগগুলো খুঁজে বের করা। আলোচনায় টেকসই শিল্প বিনির্মাণে বিজিএমইএর অগ্রাধিকারগুলো গুরুত্ব পায়। এসব ক্ষেত্রে কীভাবে কেমার্ট এগিয়ে আসতে পারে সেগুলো নিয়েও আলোচনা হয়। বৈঠকে অস্ট্রেলিয়ায় বাজার সম্প্রসারণের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় মেলা আয়োজন, বাণিজ্য প্রতিনিধিদল প্রেরণ প্রভৃতি বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে বিজিএমইএর পক্ষ থেকে কেমার্টকে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের শক্তি ও সক্ষমতা, টেকসই উন্নয়নসহ শিল্পের ভালো দিকগুলো প্রচারণার জন্য আহ্বান জানিয়েছে।

কেমার্টের চিফ পিপল অ্যান্ড করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার বলেন, কেমার্ট বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্ককে মূল্যবান মনে করে এবং ভবিষ্যতে আরও নতুন নতুন ক্ষেত্রগুলোতে সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

মাহমুদ হাসান খান বলেন, টেকসই তৈরি পোশাক শিল্প বিজিএমইএর অন্যতম অগ্রাধিকার এবং বর্তমান বোর্ড দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই সুষ্ঠু শিল্প সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য সব শ্রমিক ফেডারেশনের সঙ্গে সংলাপ করেছে।

এ সময় তিনি বিজিএমইএ কর্তৃক শ্রমিকদের কল্যাণে নেওয়া অন্য পদক্ষেপগুলোও তুলে ধরেন। একই সঙ্গে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, উদ্ভাবন এবং দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে বিজিএমইএ এর চলমান উদ্যোগগুলো নিয়েও কথা বলেন।

বিজিএমইএ সভাপতি টেকসই শিল্প গড়তে সমন্বিত আচরণবিধি প্রণয়নের ওপর জোর দেন। তিনি পোশাক শিল্পের জন্য একটি সমন্বিত আচরণবিধি প্রণয়নে কেমার্টের সহযোগিতা কামনা করেন।

তার মতে, একটি সমন্বিত আচরণবিধি নিরীক্ষা প্রক্রিয়া সহজতর করবে, কারখানার ওপর চাপ কমাবে এবং শিল্পকে আরও নৈতিক, টেকসই এবং দায়িত্বশীল করে তুলবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত