ভারতের রাজধানী দিল্লিতে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার সকালে দিল্লিতে পার্লামেন্ট থেকে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় তাদের আটক করে পুলিশ। ক্ষমতাসীন বিজেপির সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের আঁতাতের অভিযোগ তুলে এ বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল বিরোধী ইন্ডিয়া জোট। তাদের আরও অভিযোগ, বিহারের এসআইআর ও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ভোটার জালিয়াতি হয়েছে। বিহারের নতুন ভোটার তালিকা তৈরি ও ভোটার হওয়ার যোগ্যতা নিয়ে নির্বাচন কমিশন যেসব শর্ত দিয়েছে, তা নিয়েও ইন্ডিয়া জোটের আপত্তি রয়েছে। পরে অবশ্য আটক সবাইকে মুক্তি দেওয়া হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পার্লামেন্ট ভবন থেকে নির্বাচন কমিশন ভবন অভিমুখে প্রতিবাদ মিছিল শুরু হয়েছিল। মিছিলে অংশ নেন রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও শারদ পাওয়ারসহ ইন্ডিয়া জোটের নেতারা। লোকসভা ও রাজ্যসভার বিরোধী এমপিরাও মিছিলে যোগ দেন।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, এ মিছিলের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমতি নেওয়া হয়নি। তাই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এনডিটিভি জানিয়েছে, সাংসদরা পার্লামেন্ট ভবন থেকে নির্বাচন কমিশন কার্যালয় যাওয়ার পথে প্রথমেই পুলিশের ব্যারিকেডের মুখে পড়েন। তখন সেখানে বসেই সেøাগান দেওয়া শুরু করেন তারা। কয়েকজন ব্যারিকেড টপকানোর চেষ্টা করলে পুলিশ এমপিদের আটক করা শুরু করে। আটক এমপিদের মধ্যে তৃণমূলের মহুয়া মৈত্র, মিতালি বাগও রয়েছেন বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমগুলো।
রাহুল ও অন্য সাংসদদের বাসে করে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের কংগ্রেসের এ নেতা বলেন এই লড়াই রাজনৈতিক নয়, এটি সংবিধান বাঁচানোর লড়াই। দিল্লি পুলিশের যুগ্ম কমিশনার দীপক পুরোহিত সাংসদদের আটক করার কথা নিশ্চিত করলেও কতজনকে আটক করা হয়েছে তা জানাননি। ঘটনার পর পুলিশ পার্লামেন্ট ভবনের চারপাশের রাস্তাগুলো বন্ধ করে দেয়। এ ঘটনায় ভারতের উভয় পার্লামেন্ট অধিবেশন দুপুর ২টা পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়।
