নতুন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন পুতিন : জেলেনস্কি

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২৫, ১২:০৯ এএম

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন যুদ্ধবিরতির জন্য নয়, বরং ইউক্রেনে নতুন সামরিক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। গত সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভিডিও বার্তায় জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা ও সামরিক কমান্ডারদের প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, পুতিন বৈঠককে নিজের ব্যক্তিগত বিজয় হিসেবে উপস্থাপন করবেন এবং এরপরও আগের মতো যুদ্ধ চালিয়ে যাবেন। আগামী শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলাস্কায় বৈঠকে বসবেন পুতিন। জেলেনস্কি বলেছেন, তিনি যুদ্ধবিরতির কোনো প্রস্তুতি নিচ্ছেন না। যুদ্ধপরবর্তী পরিস্থিতির জন্য রাশিয়ার সেনারা কোনো নির্দেশ পাননি। বরং তারা বাহিনী পুনর্বিন্যাস করছে, যা নতুন হামলারই ইঙ্গিত।

ইউক্রেনের দক্ষিণ ফ্রন্টের সামরিক মুখপাত্র ভøাদিসøাভ ভলোশিন সোমবার রয়টার্সকে জানান, রাশিয়া জাপোরিজ্জিয়া অঞ্চলে কিছু সেনা ইউনিট সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, যা নতুন আক্রমণের প্রস্তুতির অংশ হতে পারে। এর আগে জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছিলেন, রাশিয়াকে কোনো ছাড় দিলে তারা যুদ্ধ থামাবে না। এক্সে তিনি লিখেছিলেন, খুনি ছাড় পেলে শান্ত হয় না। রাশিয়া হত্যাযজ্ঞ থামাতে অস্বীকার করছে। তাই তাদের কোনো পুরস্কার বা ছাড় দেওয়া যাবে না। এই সতর্কবার্তা ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকের প্রাক্কালে এলো। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট সোমবার ওয়াশিংটন ডিসিতে সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, যুদ্ধ শেষ করতে কিয়েভকে কিছু ভূমি ছাড় দিতে হবে। ট্রাম্প আরও বলেছিলেন, বৈঠকের প্রথম দুই মিনিটেই তিনি বুঝে যাবেন আলোচনায় অগ্রগতি সম্ভব কি না। ভবিষ্যতে পুতিনের সঙ্গে জেলেনস্কিরও বৈঠক হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। এদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য দেশগুলো বলেছে, ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করার পূর্ণ স্বাধীনতা দেশটির থাকতে হবে। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের বৈঠকের আগে মঙ্গলবার এ অবস্থান জানালেন তারা। হাঙ্গেরি বাদে বাকি ইইউ দেশগুলোর যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অর্থবহ আলোচনার জন্য যুদ্ধবিরতি বা সংঘাত কমানো অপরিহার্য। কূটনৈতিক সমাধান অবশ্যই ইউক্রেন ও ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষা করবে। হাঙ্গেরি বাদে বাকি ইইউ দেশগুলোর যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অর্থবহ আলোচনার জন্য যুদ্ধবিরতি বা সংঘাত কমানো অপরিহার্য। কূটনৈতিক সমাধান অবশ্যই ইউক্রেন ও ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষা করবে।

ট্রাম্প বলেছেন, যেকোনো শান্তিচুক্তিতে রাশিয়া ও ইউক্রেনকে ভূখণ্ড হারাতে হবে, যা ইউক্রেন ও ইউরোপের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বর্তমানে এসব ভূখণ্ড কার্যত ইউক্রেনের। এদিকে, ইউক্রেনের ডোব্রোপিলিয়া এলাকার কাছে দুদিক দিয়ে রাশিয়া প্রায় ১০ কিলোমিটার উত্তর দিকে অগ্রসর হয়েছে। তাদের লক্ষ্য ডনেস্ক অঞ্চলের পোকরোভস্ক শহরের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়া। এদিকে ইউক্রেনীয় সেনারা সোমবার পূর্বাঞ্চলীয় সুমি অঞ্চলের দুটি গ্রাম পুনর্দখল করেছে। প্রায় দেড় বছরের ধীর রুশ অগ্রগতির মধ্যে এটি একটি ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত