অসুস্থ বৃদ্ধকে কোলে করে নেওয়া হচ্ছে হাসপাতালে। পথের অবস্থা এতটাই কর্দমাক্ত ও বেহাল যে, গাড়ি চলাচল তো দূরের কথা পায়ে হেঁটে যাওয়ারও জো নেই। হাঁটু পর্যন্ত কাদা ও গর্তে পড়ে পড়তে হয় বিপদে।
সাদা চোখে দেখলেই মনে হবে সড়ক নয় যেন চাষের জমি। চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির সুয়াবিল ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের উত্তর হাজিরখীল গ্রামের ঈদগাহছোলা সড়কের অবস্থা এতোই নাজুক যে বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় সড়কটির ৩ কিলোমিটার এলাকা বেহাল দশা হয়ে পড়েছে। একটু বৃষ্টি হলেই সড়কটি হাঁটু পর্যন্ত কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে।
স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও সংস্কার না হওয়ায় এ গ্রামের ৫ হাজারের অধিক মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই।
স্থানীয়রা জানান, সড়কটি এতোই বেহাল যে কোন যানবাহন তো চলেই না, খালি পায়েও হেঁটে যাওয়াও যায় না। কোনরকম গাড়ি নিয়ে যেতে চাইলে পরতে হয় মহাবিপদে। সিএনজি অটো রিক্সা, মোটর রিক্সা ও মোটরসাইকেল উল্টে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আহত হয়ে অনেক মানুষের হাত-পা ভেঙে গেছে।
জানা যায়, ওই এলাকায় ১২শ পরিবারের বসবাস। এই সড়ক হয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ উপজেলা সদর, নাজিরহাট বাজারসহ চট্টগ্রাম শহরে যেতে হয়। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পরতে হয় অসুস্থ রোগীকে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে শুরু করে কোন রোগীকে হাসপাতালে নিতে হলে কোলে করে নেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। এম্বুলেন্স পর্যন্ত যাওয়ার সুযোগ নেই এখানে।
ফলে অনেক প্রসূতিকে পড়তে হয় নিদারুন দুর্ভোগে। ঈদগাহছোলা এলাকায় রয়েছে ২টি মাদরাসা। এছাড়াও শত শত স্কুলগামী কোমলমতি শিক্ষার্থীদের হেঁটে যাতায়াতে প্রায়ই পড়তে হয় বিড়ম্বনায়। সড়কটি বছরের অর্ধেকের বেশি সময় কর্দমাক্ত থাকায় শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে পারে না। এছাড়াও এই সড়ক দিয়েই প্রতিদিন কয়েকটি উচ্চ বিদ্যালয়, নাজিরহাট ও কাটিরহাট কলেজে যেতে হয়।
নিরুপায় গ্রামবাসী প্রায়ই মাটি ফেলে কাঁচা সড়কটি মেরামত করলেও বৃষ্টির কারণে তা বেশিদিন টেকসই হয় না। তাই এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সড়কটি অবিলম্বে পাকা করার জোর দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা সমাজকর্মী মো. রাসেল রাসু বলেন, বৃষ্টিবাদল ছাড়াও শুকনো মৌসুমে এ সড়কের অধিকাংশ স্থানে উঁচু-নিচু গর্ত থাকে। জনপ্রতিনিধি আসে আর কথার ফুলঝুঁড়ি দিয়ে চলে যায়।
স্থানীয় মাদরাসা শিক্ষক মাওলানা মুমিন জানান, রাস্তা খারাপ হওয়ায় প্রতি ২৫ জনের মধ্যে ১০ জন শিক্ষার্থী স্কুল মাদরাসায় আসে না।
উপজেলা প্রকৌশলী তন্ময় নাথ জানান, সড়কটি এখনো আইডিভূক্ত হয়নি। সড়কটি আইডিভূক্ত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
সুয়াবিল ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নজরুল ইসলাম বলেন, জানতে পারলাম সড়কটির অবস্থা খুবই নাজুক। সড়কটি সংস্কারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
২৪ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে হার মানলেন আরও এক শিক্ষিকা
নতুন মামলায় রাজ-শিল্পা
ফরিদপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত
ডাকসুর মনোনয়ন ফরম বিতরণ নিয়ে জানাচ্ছে ঢাবি প্রশাসন। সরাসরি...