সিইউএফএলে একই পে-স্কেল বাস্তবায়ন দাবিতে বিক্ষোভ

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২৫, ০৫:১০ পিএম

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ‘এক কর্পোরেশন, এক স্কেল’ বাস্তবায়ন ও নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও গেইট মিটিং করেছেন চিটাগাং
ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডের (সিইউএফএল) শ্রমিক-কর্মচারীরা। বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত কারখানার প্রধান ফটক ও প্রশাসন ভবনের সামনে এসব কর্মসূচি পালন করা হয়। 

সমাবেশে বক্তারা বলেন, সরকারি স্বায়িত্বশাসিত সকল প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সবার জন্য একই পে-স্কেল কিংবা স্বতন্ত্র বেতন স্কেল থাকলেও বিসিআইসির আওতাধীন প্রতিষ্ঠানসমূহে দুইটি ভিন্ন বেতন স্কেল বিরাজমান। বিভিন্ন শিল্প কারখানায় কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারী দুই তৃতীয়াংশ জাতীয় পে-স্কেল এবং এক তৃতীয়াংশ জাতীয় মজুরি কমিশনের আওতাধীন। এতে কারখানার মূল চালিকাশক্তি সুদক্ষ অপারেটর ও টেকনিশিয়ানদের বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে বৈষম্য-পূর্ণ মজুরি স্কেলে। এ কারণে তারা সরকার ঘোষিত নানা প্রণোদনা-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এই বৈষম্যের দ্রুত সমাধান চেয়ে বঞ্চিত শ্রমিক-কর্মচারীদের বিসিআইসির জাতীয় পে-স্কেলে অন্তর্ভুক্তির দাবি জানান বক্তারা।

তারা জানান, একই কারখানায় এবং একই কর্পোরেশনের আওতায় কাজ করলেও নানা কারণে দীর্ঘদিন ধরে মজুরি কমিশনের আওতাধীন শ্রমিকরা চরম বৈষম্যের শিকার ও ন্যায্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত। জাতীয় বেতন স্কেলের আওতাধীন শ্রমিকরা সরকার ঘোষিত ১৫ শতাংশ বিশেষ প্রণোদনা পেলেও জাতীয় মজুরি কমিশনের আওতাধীন শ্রমিকরা এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এতে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। এ বৈষম্য থেকে রেহাই পেতে ‘এক কর্পোরেশন, এক পে-স্কেল’ বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়। শ্রমিকদের দাবি, এটি বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হবে না। তবে শ্রমিক-কর্মচারীদের মাঝে যে বৈষম্য আছে তা নিরসন হবে। 

শ্রমিক-কর্মচারীরা বলেন, চলতি বছরের ১১ এপ্রিল থেকে ১২৬ দিন ধরে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় চট্টগ্রাম সার কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এতে প্রতিদিন ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে, যার মূল্য ৫৭০ কোটি টাকার বেশি। বিদেশ থেকে আন্তর্জাতিক দরে উচ্চমূল্য ভর্তুকি দিয়ে সার আমদানি বন্ধ করতে হবে। কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করে ইউরিয়া উৎপাদন পুনরায় চালুরও দাবি জানান তারা। কারখানা বন্ধ থাকলে যন্ত্রপাতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাছাড়া উৎপাদন বন্ধ থাকলে শ্রমিক-কর্মচারীরা বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়।

কারখানার শ্রমিক সৈয়দ আসলাম আলীর সভাপতিত্বে ও শ্যামল কান্তি নাথের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ওয়ার্কাস ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল আজিম সবুজ, সহ-সভাপতি হারুন-উর-রশিদ, সিইউএফএল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের (সিবিএ) সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলম মজুমদার, শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে জালাল আহমেদ, রবিউল ইসলাম খান, ফরিদুল আলম চৌধুরী, আনিসুর রহমান, মাহমুদুল হাসান ডালিম, ইউসুফ আলম খান, হুমায়ুন কবির ও নওশাদ আরমান সাকিব প্রমুখ। 

এ ব্যাপারে কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মিজানুর রহমান শ্রমিক-কর্মচারীদের বিক্ষোভ সমাবেশের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পরবর্তীতে তাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে মাননীয় শিল্প উপদেষ্টা বরাবর একটি স্মারকলিপি দেওয়ার কথা রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত