স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, ‘জনগণ যখন নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যায়, তখন কেউ তা বাধাগ্রস্ত করতে পারে না। ক্ষমতা জনগণের হাতে। জনগণ যখন নির্বাচনের পথে অগ্রসর হবে, তখন কারও ক্ষমতা নেই তা বন্ধ করার।’
গতকাল শনিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট পরিদর্শনের সময় নিষিদ্ধ পলিথিনের উৎপাদন, পরিবহন ও বিপণন রোধে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা যে সময় নির্ধারণ করেছেন, সেই সময়েই নির্বাচন হবে। এ বিষয়ে অন্য কারও কিছু বলার নেই।’
পরিদর্শনের সময় তিনি দোকানিদের পলিথিন ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করতে এর ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরেন। পরিদর্শন শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘এখানে দুটি উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছি। দেশের বিভিন্ন স্থানে পানি বৃদ্ধি ও অতিবৃষ্টির কারণে শাক-সবজি নষ্ট হয়েছে। ফলে বাজারে শাক-সবজির দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে আলুর পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে, কিন্তু কৃষকরা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। বাজারে দামের পার্থক্য ৫-৬ টাকা। এতে ভোক্তা ও কৃষক উভয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কৃষক যদি আলুর ন্যায্য দাম না পান, তবে তারা ভবিষ্যতে আলু চাষে আগ্রহ হারাবেন। ফলে আলুর দাম বেড়ে যাবে। তাই ভোক্তা ও কৃষকদের সুবিধার জন্য ন্যায্য দাম নির্ধারণ করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মধ্যস্বত্বভোগীদের লাভ কিছুটা কমাতে হবে। এটি নিয়ন্ত্রণে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। আপনাদের সহযোগিতা ছাড়া এটা সম্ভব নয়। অন্যান্য পণ্যের দাম বাজারে মোটামুটি সহনীয় রয়েছে, তবে কিছু কিছু সবজির দাম বেড়েছে।’
চাঁদাবাজির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মোহাম্মদপুর-মিরপুর এলাকায় চাঁদাবাজি বেশি হচ্ছে। এটি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। বাংলাদেশে কোনো চাঁদাবাজের স্থান নেই। যত বড় চাঁদাবাজই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা যদি কোনো চাঁদাবাজের সন্ধান পান, আমাদের জানান। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে আইনের আওতায় আনব। চাঁদাবাজি নির্মূলে আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন। আপনাদের কাজ হলো চাঁদাবাজদের চিহ্নিত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে সোপর্দ করা।’
যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যার বিরুদ্ধে যে অভিযোগই উঠুক, এখানে এ বিষয়ে কিছু বলব না।’
মাদক নির্মূলের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আপনাদের মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে অনুরোধ করছি। মাদক আমাদের সমাজকে ধ্বংস করবে, যদি আপনারা সোচ্চার না হন। আমরা অসহিষ্ণু জাতি হয়ে গেছি। কোনো ঘটনা ঘটলে আমরা ছবি তুলি, কিন্তু প্রতিকার করি না। সমাজে কোনো খারাপ কাজ হলে তা প্রতিকার করা আমাদের ইমানি দায়িত্ব।’
পলিথিন ব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পলিথিনের কারণে আমাদের মাটি নষ্ট হচ্ছে। এটি কখনো পচে না এবং পানি আটকে দেয়। এর কোনো উপকার নেই, শুধু ক্ষতি। এক সময় পাটের ব্যাপক চাহিদা ছিল, কিন্তু এখন কৃষকরা পাটের দাম পান না। পলিথিন ব্যবহার বন্ধ করে পাটের ব্যাগ ব্যবহার করলে কৃষকরা লাভবান হবেন।’
