দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র তাছিন তালহাকে মারধরের কারণ জানতে গিয়ে সন্তানের বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে চাঁদাবাজ আখ্যা পেতে হয়েছে মা তাসলিমা আকতার শাপলাকে। ঘটনাটি ঘটেছে জয়পুরহাটের আক্কেলপুরের সোনামুখী ইউনিয়নের অনন্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এই ঘটনায় প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলামের ওপর ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও এলাকাবাসীরা।
রবিবার (১৭ আগস্ট) বিকালে ওই শিক্ষার্থীর মাসহ বিদ্যালয়ের ২৫ জন অভিভাবক স্বাক্ষর করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। এ ঘটনায় সোমবার তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে জানিয়েছেন আক্কেলপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার।
এ বিষয়ে রবিবার বিকালে ওই বিদ্যালয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তারা শিক্ষক ও অভিভাবকদের সাথে কথা বলছেন।
এ ঘটনায় অভিভাবক ও স্থানীয়রা অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে অন্যত্র বদলীর দাবি জানান। পরে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন কর্মকর্তারা।
অভিভাবক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার ১২ অক্টোবর উপজেলার অনন্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র তাছিন তালহা প্রতিদিনের মতো স্কুলে যায়। ওই দিন প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম ক্লাসে গিয়ে ক্লাস টেস্টের অংশ হিসেবে সবাইকে ‘আমাদের ছোট নদী’ ছড়া লিখতে দেন।
ছড়া লেখায় তালহা বেশ কয়েকটি বর্ণ ছোট বড় করে লিখে শিক্ষককে জমা দেন। কিছু লেখা ছোট বড় করায় তাকে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে বেধরক মারধর করেন। এসময় ছাত্রটির পিঠ ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গুরুতর জখম হয়। পরে পিটি প্যারেড, জাতীয় সংগীত ও শপথ চলাকালে লাইন বাঁকা হওয়াই আবারও তালহাসহ আরও বেশ কিছু শিক্ষার্থীর হাতে কঞ্চি দিয়ে মারেন ওই প্রধান শিক্ষক।
বিষয়টি সে বাড়িতে এসে মাকে জানালে তার মা মারধরের কারণ জানতে স্কুলের ওই শিক্ষকের কাছে যান। প্রথমে ওই অভিভাবকের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন প্রধান শিক্ষক। পরে অভিভাবক ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে তাকে ও তার ছেলেকে চাঁদাবাজ আখ্যা দিয়ে গালিগালাজ করেন ওই শিক্ষক। এতেই ক্ষুব্ধ হন এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা।
অভিভাবক ও এলাকাবাসীদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষকের এমন আচরণে প্রতিনিয়ত বিদ্যালয় থেকে কমে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা।প্রধান শিক্ষক কোমলমতি শিশুদের সঙ্গে প্রায় সময় খারাপ আচরণ করেন। সে ছোট খাটো ব্যাপারে শিশু শিক্ষার্থীদের গাল মন্দ করে করে মারধর করেন। সবসময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন। সামান্য ভুলেও বাচ্চাদের পেটান, সমাবেশে লাইন বাঁকা হলেও ছাড় দেন না। এমনকি প্রশংসাপত্র দিতে নিয়ম বহির্ভূতভাবে টাকা আদায় করেন। দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী ৫০ হাজার টাকা চাইতে পারে এটা অবিশ্বাস্য। প্রধান শিক্ষক মারধর করার ঘটনা ধামাচাপা দিতে চাঁদাবাজীর কথা বলছেন। এর সুষ্ঠু বিচার হওয়া দরকার।
শিশুটির মা তাসলিমা বলেন, আমার ছেলে ওই দিন দুপুরে বাড়িতে এসে কান্না করতে করতে আমাকে মারধরের বিষয়টি জানায়। পরে আমি ওই শিক্ষকের কাছে মারধরের কারণ জানতে গেলে তিনি আমাকে বলেন, আপনার ছেলে আমার কাছে এক মাস আগে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা চেয়েছে। তার ওপর লেখা খারাপ করেছে বলে, আমাকে ও আমার ছেলেকে চাঁদাবাজ আখ্যা দিয়ে গালিগালাজ করেছে। দ্বিতীয় শ্রেণির একজন ছাত্র কিভাবে চাঁদা চাইতে পারে? ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করতে ও বিষয়টি ধামাচাপা দিতে আমার ছেলের বিরুদ্ধে চাঁদা চাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন ওই শিক্ষক। আমি আক্কেলপুর উপজেলা নির্বাহী বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছি। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
এব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, মাস খানেক আগে ওই ছাত্র আমার কাছে এসে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা দাবি করেছিল। আর সেদিন ক্লাসে হট্টোগোল করায় ক্লাস নিয়ন্ত্রণ করতে মেরেছি। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্য নয়।
আক্কেলপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনজুরুল আলম বলেন, দ্বিতীয় শ্রেণির এক ছাত্রকে মারধরের ঘটনায় ছাত্রটির মা রবিবার বিকালে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এ ঘটনায় সোমবার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত রিপোর্টের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
