নিরাপত্তা উপদেষ্টা বললেন

চার আন্তর্জাতিক সম্মেলন হবে রোহিঙ্গা ইস্যুতে

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২৫, ০৬:৫৮ এএম

বাংলাদেশে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় চলতি বছরের আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত চারটি উচ্চপর্যায়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করা হচ্ছে। জাতিসংঘ, কাতার ও বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এসব সম্মেলনের উদ্দেশ্য হলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করা এবং সংকট সমাধানে বাস্তবসম্মত অগ্রগতি অর্জন করা।

গতকাল রবিবার ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত এক ব্রিফিংয়ে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান বিদেশি কূটনীতিক ও উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে সম্মেলনের পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। এ সময় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, চীন, সিঙ্গাপুর, তুরস্ক, দক্ষিণ কোরিয়া, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, কাতার ও সৌদি আরবসহ ৫০টিরও বেশি মিশনের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

প্রথম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৫ আগস্ট কক্সবাজারে, রোহিঙ্গা ঢলের আট বছর পূর্তিতে। ‘অংশীজন সংলাপ : রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে আলোচনার জন্য প্রাপ্ত বার্তা’ শীর্ষক এ বৈঠকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের।

এরপর ৩০ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ফাঁকে অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় সম্মেলন, যেখানে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বৈশ্বিক ঐকমত্য ও মানবিক প্রতিশ্রুতি জোরালোভাবে তুলে ধরা হবে।

ডিসেম্বরের ৬ তারিখে কাতারের দোহায় হবে তৃতীয় বড় সম্মেলন, যেখানে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশগুলোকে এই সংকটে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানানো হবে। চতুর্থ সম্মেলনের সময়সূচি প্রাথমিকভাবে নির্ধারণ করা হলেও তা বছরের শেষের দিকে বাংলাদেশে আয়োজিত হতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে। প্রতিটি সম্মেলনে বেশ কয়েকটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, রোহিঙ্গাবিষয়ক বিশেষ দূত, বিদেশে বাংলাদেশের মিশনের প্রতিনিধি এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা অংশ নেবেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ মাসে প্রায় দেড় লাখ নতুন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এ পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য মানবিক ও নিরাপত্তাজনিত উভয় দিক থেকেই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কূটনৈতিক মহল মনে করছে, আন্তর্জাতিক সম্মেলনের মাধ্যমে বাংলাদেশ সংকট সমাধানে বৈশ্বিক চাপ এবং সহযোগিতা উভয়ই বাড়াতে চাইছে।

ধারণা করা হচ্ছে, চারটি সম্মেলনের ধারাবাহিক আয়োজন বাংলাদেশকে একদিকে আন্তর্জাতিক জনমত শক্ত করার সুযোগ দেবে, অন্যদিকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক মহলে নতুন করে আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি করবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত