জুলাই-আগস্টে ব্যাপক হত্যাকা-সহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আগামী অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হতে পারে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন শাখার আইনজীবীরা।
গতকাল রবিবার প্রসিকিউটর মোহম্মদ মিজানুল ইসলাম ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘এ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা ছাড়া বাকি সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই শেষ করা যাবে বলে আশা করছি। খুব বেশি হলে পরের মাসে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে যেতে পারে।’
এদিকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে গতকাল আরও চারজন সাক্ষ্য দিয়েছেন।
তারা হলেন, জুলাই যোদ্ধা ও আহত আব্দুস সামাদ, সামাদের মাথায় বিদ্ধ গুলি জব্দ করার সময় জব্দ তালিকার সাক্ষী মো. মিজান মিয়া, খুলনার একটি কলেজের শিক্ষার্থী, জুলাই যোদ্ধা নাইম শিকদার এবং সাভারের আশুলিয়ায় গুলিতে নিহত ও পরে পুলিশের ভ্যানে লাশ পোড়ানোর ঘটনায় শহীদ সাজ্জাদ হোসেন সজলের মা শাহীনা বেগম (৪১)। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে তাদের জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল- ১ পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আজ সোমবার ধার্য করেন। গতকাল পর্যন্ত এ মামলায় ৯ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিলেন। এদিন সকালে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় হাজির করা হয়। ইতিমধ্যে চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন এ মামলায় রাজসাক্ষী হওয়ার আরজি জানালে আদালত তা মঞ্জুর করেছে। শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে পলাতক দেখিয়ে বিচারকাজ হচ্ছে। গতকাল আদালতে প্রসিকিউশনপক্ষে শুনানিতে ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম। শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন। চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ।
এর আগে এ মামলায় গত ৩ আগস্ট সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এর মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের কোনো মামলায় আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। ওইদিন প্রথম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন গত বছরের ৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ীতে গুলিতে মুখম-ল বিকৃত হয়ে যাওয়া খোকন চন্দ্র বর্মণ। এরপর ৪ আগস্ট দুজন এবং ৫ আগস্ট আরও দুজন সাক্ষ্য দেন। গত ১২ মে শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। এরপর ১ জুন তিন আসামির বিরুদ্ধে দাখিলকৃত অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। ওইদিন শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করে ১৩টি ভলিউমে সাড়ে আট হাজার পৃষ্ঠার নথি ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয়। এরপর ১০ জুলাই ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠন করলে বিচারের প্রক্রিয়া শুরু হয়। শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচ অভিযোগে ৮১ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেবেন। গণআন্দোলন দমনে হত্যার উসকানি, প্ররোচনা, নির্দেশ প্রদান, রংপুরে আবু সাঈদ হত্যা, রাজধানীর চানখাঁরপুলে ৬ জনকে হত্যা, সাভারের আশুলিয়ায় ৬ জনকে গুলি করে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে ফেলার ঘটনায় ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’র অভিযোগ আনা হয়েছে আসামিদের বিরুদ্ধে।
