নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে আদালতের মাধ্যমে ৩-৪ মাস আগে স্বামী মো. আজহারুল সরদারকে তালাক দেন তফুরা খাতুন নামে এক নারী। কিন্তু তালাকের পরও সংসারে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠেন আজহারুল। তফুরা খাতুনকে নানাভাবে বুঝিয়ে ব্যর্থ হওয়ায় আক্রোশ জন্মে আজহারুলের মনে। একপর্যায়ে সে তফুরা খাতুনের প্রথম পক্ষের ছেলে রাকিবুল সরদারকে বাসায় ডাকেন। মায়ের সিদ্ধান্তের অবাধ্য হতে পারব না রাকিবুল এ কথা বলার পরই মারধর শুরু করেন আজহারুল। একপর্যায়ে গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পালিয়ে যান। ঢাকার কেরানীগঞ্জে রাকিবুল সরদার (১৪) নামে এক কিশোরকে হত্যার ঘটনায় তার সৎবাবা মো. আজহারুল সরদারকে (৩৬) গ্রেপ্তারের পর এসব তথ্য জানিয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
গতকাল সোমবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১০ এর অধিনায়ক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, রাকিবুল ও তার মা তফুরা খাতুন (৩৪) ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন চুনকুটিয়া নাজিরেরবাগ এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করত। রাকিবুল স্থানীয় একটি এমব্রয়ডারি কারখানায় কর্মরত ছিল। তফুরা খাতুনের প্রথম স্বামী খায়রুল সরদার মৃত্যুবরণ করলে তিনি দুই বছর আগে মো. আজহারুল সরদারকে বিয়ে করেন। তবে বিয়ের পর নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনি আদালতের মাধ্যমে আজহারুলকে আনুমানিক ৩-৪ মাস আগে তালাক দেন। এরপর থেকে তফুরা খাতুনকে নিয়মিত হুমকি দিয়ে আসছিলেন আজহারুল।
র্যাব কর্মকর্তা আরও জানান, গত ১৪ আগস্ট সকাল অনুমানিক ৯টার দিকে রাকিবুল প্রতিদিনের মতো কাজে বের হয়ে আর বাসায় ফেরেনি। পরদিন ১৫ আগস্ট সকাল আনুমানিক ৯টায় রাকিবুলের খোঁজ না পেয়ে তার মা তফুরা খাতুন বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। তফুরা খাতুন তার সাবেক স্বামীর কাছেও ছেলের খোঁজ জানতে চান। কিন্তু আজহারুল সঠিক তথ্য দেননি। অনেক খোঁজাখুঁজির পর আজহারুল জানান, রাকিবুল তার সঙ্গে সাতক্ষীরায় আছে এবং তিনি তফুরা খাতুনের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে কিছু টাকাও নেন।
র্যাব-১০ অধিনায়ক জানান, গত ১৬ আগস্ট সকালে তফুরা খাতুন মোবাইল ফোনে জানতে পারেন, তার ছেলে রাকিবুলের মৃতদেহ আসামি আজহারুলের ভাড়া বাড়িতে রয়েছে। পরে থানা পুলিশ ৯৯৯ এর মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে বেলা আনুমানিক সাড়ে ১১টার সময় স্থানীয়দের সহায়তায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়া পশ্চিমপাড়ায় আজহারুলের ভাড়াবাড়ি থেকে রাকিবুলের মৃতদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামিকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে র্যাব-১০ বরাবর একটি অধিযাচনপত্র পাঠান।
পরে র্যাব-১০ এর একটি আভিযানিক দল তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৬ এর সহযোগিতায় গত রবিবার রাতে খুলনার হরিণটানা থানাধীন জিরো পয়েন্ট মোড়ে অভিযান পরিচালনা করে মো. আজহারুল সরদারকে গ্রেপ্তার করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার আজহারুল র্যাবকে জানিয়েছেন, তিনি পুরনো সংসারে ফিরতে নানাভাবে চেষ্টা করেন। কিন্তু তফুরা খাতুন তাতে রাজি হননি। পরে আজহারুল সৎছেলে রাকিবুলকে বাসায় ডেকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু রাকিবুল মায়ের কথার বিপরীতে না যাওয়ায় আজহারুল ক্ষিপ্ত হয়ে প্রথমে তাকে মারধর করেন এবং পরে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পাশাপাশি মরদেহ গুম করারও চেষ্টা করেন।
